images

লাইফস্টাইল

সাধারণ জ্বর না কি ম্যালেরিয়া? বুঝবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

একটা সময় ছিল যখন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু বা চিকেনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে উজাড় হয়ে যেত গ্রামের পর গ্রাম। তবে এখন সেসব অতীত। বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে এখন এসব রোগ অনেকটাই বশে আছে। তবুও প্রতি বছর মশাবাহিত এসব রোগে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। যার নেপথ্যে মানুষের সচেতনতার অভাবই সবচেয়ে বেশি দায়ী। তাই ম্যালেরিয়া সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালিত হয়। 

চলতি বছর ম্যালেরিয়া দিবসের থিম- ‘Driven to End Malaria: Now We Can. Now We Must’। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ম্যালেরিয়া এখনও বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও, আমাদের কাছে তা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার জ্ঞান এবং উপায় দুটোই আছে। দরকার শুধু সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ।  

ম্যালেরিয়া কী? 

ম্যালেরিয়া মূলত একটি পরজীবীজনিত সংক্রামক রোগ, যা প্লাজমোডিয়াম নামক পরজীবীর মাধ্যমে ছড়ায়। মূলত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। সাধারণত এই মশা রাতে কামড়ায়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে ম্যালেরিয়া গুরুতর আকার নিতে পারে। দ্রুত শনাক্ত হলে এই রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

malaria_1

যেসব লক্ষণে বুঝবেন এটি সাধারণ জ্বর নয়, ম্যালেরিয়া 

  • জ্বরের সঙ্গে কাঁপুনি
  • অতিরিক্ত ঘাম
  • মাথা ব্যথা
  • দুর্বলতা ও ক্লান্তি
  • বমি ভাব বা বমি
  • সারা শরীরে ব্যথা

যেসব লক্ষণ মানুষ অবহেলা করেন 

অনেক সময় ম্যালেরিয়ার শুরুতে সাধারণ জ্বর বা ফ্লু ভেবে বেশিরভাগ মানুষ উপেক্ষা করেন। যেমন— হালকা জ্বর, শরীরে ব্যথা, ঠান্ডা লাগা বা ক্লান্তি। এই সাধারণ লক্ষণগুলোকে অবহেলা করলে রোগ গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই নিজের মতো ওষুধ না খেয়ে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী টেস্ট করানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। 

malaria_2

ম্যালেরিয়া কি সংক্রামক?

ম্যালেরিয়া সরাসরি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়ায় না। এটি কেবলমাত্র সংক্রামিত অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে বিরল ক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালন বা গর্ভাবস্থায় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে করণীয় কী? 

  • জ্বর বা কাঁপুনি দেখা দিলে দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করান
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং পানি পান করুন
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খান

কখন হাসপাতালে যেতে হবে?  

  • জ্বর কয়েকদিন ধরে না কমলে
  • বার বার বমি বা খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে
  • অজ্ঞান হয়ে গেলে
  • খিঁচুনি দেখা দিলে
  • শ্বাসকষ্ট বা তীব্র দুর্বলতা অনুভব করলে

শিশু, গর্ভবতী নারী বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

malaria_3

প্রতিরোধের উপায় কী?

  • বাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেবেন না (সামান্যতম জমা পানিতেও মশা বংশবিস্তার করতে পারে) 
  • মশারি ব্যবহার করুন, বিশেষ করে রাতে
  • মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করতে পারেন
  • ফুল হাতা জামা ও শরীর ঢাকা পোশাক পরলে ভালো
  • জানালা-দরজায় জালি ব্যবহার করুন যেন মশা ঢুকতে না পারে

চিকিৎসা ও পরবর্তী যত্ন

ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা রোগের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। পুরো কোর্স শেষ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষণ কমে গেলেও ওষুধের কোর্স শেষ করতে হবে। 

malaria_4

সুস্থ হয়ে উঠতে ম্যালেরিয়া সেরে উঠলেও— পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। বিশ্রাম নেওয়াটাও জরুরি। এতে শরীরের শক্তি ফিরে পাবেন দ্রুত। মনে রাখবেন, ম্যালেরিয়া গুরুতর কিন্তু প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য রোগ। 

সময় মতো পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই রোগ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সচেতনতা বাড়ানোই ম্যালেরিয়া থেকে লড়াইয়ের প্রধান ধাপ। 

এনএম