লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ পিএম
থার্মোমিটারের পারদ যত বাড়ছে, শরীরের ওপর ধকলও ততটাই বাড়ছে। তীব্র তাপপ্রবাহের এই সময়ে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক এবং পেটের সমস্যা খুবই সাধারণ ঘটনা। পুষ্টিবিদদের মতে, এই গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে এমন কিছু সবজি বেছে নিতে হবে যাতে পানির পরিমাণ বেশি এবং যা হজম করা সহজ।
তীব্র এই গরমে শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখতে নিচের সবজিগুলো জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে-
১. লাউ: প্রাকৃতিক শীতলকারক
লাউয়ের প্রায় ৯২ শতাংশই পানি। এটি কেবল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে না, বরং পাকস্থলীকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। গরমে যাদের হজমের সমস্যা হয়, তাদের জন্য লাউয়ের ঝোল বা নিরামিষ অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া লাউ খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও শরীরের বাড়তি তাপ কমে আসে।

২. শসা: পানিশূন্যতা রোধে সেরা
শসাকে বলা হয় ‘ওয়াটার বোম্ব’। গরমে শরীরে পানির অভাব মেটাতে শসার বিকল্প নেই। এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। সালাদ হিসেবে বা কাঁচা শসা চিবিয়ে খাওয়া এই সময়ের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস।
৩. ঝিঙে ও চিচিঙ্গা: সহজপাচ্য পুষ্টি
ঝিঙে এবং চিচিঙ্গা—এই দুটি সবজিই খুব হালকা এবং সহজে হজম হয়। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় অংশ ও ভিটামিন থাকে। যারা গরমে ভারী খাবার খেতে পারেন না, তাদের জন্য এই সবজিগুলো শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয়।

৪. করলা: রোগ প্রতিরোধে অনন্য
গরমে অনেক সময় খাবারে অরুচি দেখা দেয়। তিতা হলেও করলা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারকে সুস্থ রাখে। এটি রক্ত পরিষ্কার করতে এবং শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতেও সহায়ক। তবে খুব বেশি তেল-মশলায় ভাজি না করে হালকা ঝোল করে খাওয়া বেশি উপকারী।
৫. পটল: পুষ্টির ভাণ্ডার
পটলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি রক্ত পরিষ্কার রাখতে এবং জ্বর-সর্দি প্রতিরোধে কাজ করে। গরমে হালকা রান্নায় পটল পাতে রাখলে পেট ঠান্ডা থাকে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।
আরও পড়ুন: রোজকার খাদ্যতালিকায় থাকা সবচেয়ে বেশি ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার কোনগুলো?
তীব্র গরমে মশলাযুক্ত এবং ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে জলীয় সবজি বেশি করে খাওয়া উচিত। তবে রান্নায় তেলের পরিমাণ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা ভালো।
এজেড