images

লাইফস্টাইল

বারবার মিসক্যারেজ মানেই কি মাতৃত্বের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া?

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

বারবার মিসক্যারেজ বা গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা কেবল শরীর নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ নারীই ভবিষ্যতের গর্ভধারণ নিয়ে শঙ্কায় ভোগেন। ভাবেন, মা হওয়ার স্বপ্ন বুঝি আর পূরণ হবে না। আসলেই কি তাই? 

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বারবার মিসক্যারেজ হওয়া মানেই যে মা হওয়ার সম্ভাবনা শেষ এমনটা নয়। 

woman_1

স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিটি নারীর শরীর আলাদা। তাই মিসক্যারেজের প্রভাবও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বারবার মিসক্যারেজ হওয়ার পরও একজন নারী সফলভাবে গর্ভধারণ করেছেন এবং সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। 

চিকিৎসকরা মনে করেন, সঠিক সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে মিসক্যারেজের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা গেলে এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

test

মেডিক্যাল সায়েন্সের উন্নতির ফলে এখন এমন অনেক পদ্ধতি রয়েছে যা এই ধরণের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তাই কেবল পুরনো ইতিহাসের ভিত্তিতে মা হওয়ার আশা ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। সঠিক পথপ্রদর্শন এবং ইতিবাচক মানসিকতা এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় ভূমিকা পালন করে।

বারবার মিসক্যারেজের ঝুঁকি কমাতে সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন- 

food_1

সুষম আহার ও ব্যায়াম: 

পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। এই কাজগুলো শরীরকে ভেতর থেকে মজবুত করে।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: 

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা গর্ভাবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই গর্ভধারণ করলে মন শান্ত রাখুন। 

pregnancy

বর্জনীয় অভ্যাস: 

ধূমপান ও মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা আবশ্যিক। মিসক্যারেজের ক্ষেত্রে এসব অভ্যাস মারাত্মক প্রভাব ফেলে। 

নিয়মিত চেকআপ: 

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টেস্ট এবং ওষুধ নিয়মিত সেবন করা উচিত।

Miscarriages

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি কোনো নারীর টানা দুই বা তার বেশি বার মিসক্যারেজ হয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সময়মতো পরীক্ষা করালে এর নেপথ্যের কারণগুলো স্পষ্ট হয় এবং পরবর্তী গর্ভাবস্থাকে নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়। 

এছাড়া গর্ভাবস্থায় কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র অবহেলা করা উচিত নয়।

woman_2

মনে রাখবেন, চিকিৎসা ও বিজ্ঞানের সাহায্যে অনেক কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব। নিয়মিত চেকআপ আর সঠিক জীবনযাত্রা বজায় রাখলে আপনিও সুস্থ মাতৃত্বের স্বাদ পেতে পারেন।

এনএম