লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
গরমের সঙ্গে সানস্ক্রিনের সম্পর্ক বেশ জোরালো। গরম থেকে ত্বককে রক্ষা করতে এর বিকল্প নেই। বাজারে এই পণ্য হরেকরকম পাওয়া যায়। এগুলোর বিভিন্ন এসপিএফ থাকে। অনেকে ভাবেন, যত বেশি এসপিএফ সম্পন্ন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন, ত্বক তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে। আসলেই কি তাই?
এসপিএফ-এর বিষয়টি বোঝার আগে সানস্ক্রিনের গুরুত্ব জানা উচিত। অনেকে মনে করেন, সানস্ক্রিন ত্বককে কালো হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। চিকিৎসকরা বলছেন, এখানেই শেষ নয়। সানস্ক্রিনের মূল কাজ হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ইউভিএ (আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি এ) এবং ইউভিবি (আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি বি)-র ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করা।

সূর্যের তাপে ত্বকে অকালবার্ধক্য দেখা দিতে পারে। ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে, পড়তে পারে বলিরেখা। ত্বকের এসব ক্ষতি এড়াতে ঢাল হিসেবে কাজ করে সানস্ক্রিন।
ত্বকের রোগ বিশেষজ্ঞের মতে, ‘প্রতিদিন দাঁত মাজা যতটা আবশ্যক, সানস্ক্রিন মাখাও তাই। কারণ, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে ত্বকের উপযোগী সানস্ক্রিন।’

বাজারে নানা ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। শুধু ক্রিমের মতো নয়, ম্যুজ, স্টিক, লোশন, পিল— নানা রকম রূপেই তা মিলছে। তবে সানস্ক্রিনের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো এসপিএফ বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর। এটি ১৫ থেকে শুরু হয়। বর্তমানে বাজারে ৩০-৫০-৭০ এমনকি এখন ১১৫ এসপিএফের সানস্ক্রিনও মিলছে।
এসপিএফের মাত্রা দেখেই অনেকে সানস্ক্রিন কেনেন। দোকানে গিয়ে বেছে নেন উচ্চমাত্রার সানস্ক্রিন। ভাবেন এসপিএফ বেশি মানে সুরক্ষাও বেশি মিলবে। সানস্ক্রিন মেখে বেশিক্ষণ রোদে ঘোরা যাবে। আসলে কিন্তু হিসাবটা এত সহজ নয়, বরং কিছুটা গোলমেলেই।

এসপিএফ হলো ‘সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর’। নির্দিষ্ট সানস্ক্রিনটি ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে কতটা রক্ষা করবে, তা-ই বোঝানো হয় এসপিএফের মাধ্যমে। সহজভাবে বলা যায়, এটি একটি পরিমাপক যা নির্ধারণ করে সূর্যরশ্মি ত্বকে কতটা প্রবেশ করবে।
সাধারণ দৃষ্টিতে এসপিএফ ৩০ যতটা সুরক্ষা দেবে, এসপিএফ ৭০-এ তার দ্বিগুণের বেশি সুরক্ষা মিলবে, অঙ্কটা তেমনই হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সুরক্ষার পরিসরে তেমন কোনো তফাত নেই। এসপিএফ ৩০ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে ত্বককে প্রায় ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। এসপিএফ ৫০ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ৯৮ শতাংশ প্রতিরোধে সক্ষম, এসপিএফ ৭০-এর ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষার মাত্রা ৯৮ দশমিক ৬।

হিসাব বলছে, এসপিএফ ৩০ ব্যবহার করলে ১০০ ভাগের মধ্যে ৩ দশমিক ৩ ভাগ সূর্যরশ্মি ত্বকে ঢুকবে। এসপিএফ ৫০-এর ক্ষেত্রে তা ২ শতাংশ এবং এসপিএফ ৭০-এর ক্ষেত্রে তা ১ দশমিক ৪ শতাংশ। সুতরাং এসপিএফ নির্ধারণ করে, কতটা সূর্যরশ্মি ত্বকে প্রবেশ করবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এসপিএফ নিয়ে বিশেষ মাথা না ঘামিয়ে বরং সানস্ক্রিন ব্যবহারেই মনোযোগী হওয়া দরকার। মেঘলা দিনে এমনকী বাড়িতে থাকলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। কারণ, সূর্যের অতি বেগনি রশ্মি রয়েছে সর্বত্রই। ঘরে থাকলে এসপিএফ ১৫-৩০ কাজ হতে পারে। তবে গ্রীষ্মকালে যেহেতু রোদ ভীষণ চড়া, তাই ৩০-এর পাশাপাশি এসপিএফ ৫০ ভালো কাজ করে।

যদি কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে অফিসে যান, বড় জোর এক-দেড় ঘণ্টার মতো রোদে থাকতে হয় তাহলে এসপিএফ ৩০-এই কাজ হবে। তবে যদি কার্যক্ষেত্রে কাউকে একটু বেশি সময় বাইরে থাকতে হয় তাহলে এসপিএফ ৫০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
এনএম