লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
ক্যালেন্ডারের পাতা আর আবহাওয়া দুটোই জানাচ্ছে প্রকৃতিতে এসেছে গ্রীষ্মকাল। গরমের জ্বালাপোড়া ভোগাচ্ছে সবাইকে। চড়া রোদ আর অসহ্যকর গরমে নাজেহাল হচ্ছে বাঙালি। গরমের এই সময়টায় শরীর নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কেননা এসময় জ্বর, পেটখারাপ, টাইফয়েড, মূত্রনালির সংক্রমণের মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া তাপপ্রবাহ হলে ঝুঁকি থাকে হিট স্ট্রোকেরও।
গরমে সুস্থ থাকতে কী করবেন? কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন? চলুন বিশেষজ্ঞের মত জেনে নিই-

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, ‘এই মরশুমে হাইড্রেশন বজায় রাখা ভীষণ জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। প্রয়োজনে ওরস্যালাইন পান করুন। খেয়াল রাখুন যেন ক্লান্তি বা ডিহাইড্রেশন না হয়।’ এছাড়া রোদ ও তাপের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকুন। হালকা পোশাক, সানগ্লাস, ছাতা ব্যবহার করতে হবে। দুপুরবেলা রাস্তায় বের না হওয়াই ভালো।
এসময় রাস্তার খাবার সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলতে হবে। গরমে অত্যধিক মসলাযুক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া না খাওয়াই ভালো। বাড়িতে তৈরি হালকা খাবার খাওয়াই ভালো। গরমে ক্লান্তি, দুর্বলতা, শারীরিক অস্বস্তি হওয়া খুব কমন সমস্যা। এগুলো এড়াতে ডাবের পানি খেতে পারেন।

গরমে খাবার প্রতি অরুচি তৈরি হয়। অনেক খাবার আবার ঠিকমতো হজম হতে চায় না। ফলে পেট খারাপের ভুগতে হয়। তাই গরমে যত হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া যায়, ততই ভালো।
চিনি মেশানো পানীয় খাওয়ার বদলে শুধু পানি খাওয়া ভালো। এসব পানীয় সুগার ক্রেভিং আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে লেবু-পুদিনার শরবত, বেলের শরবত, দইয়ের ঘোল, ডাবের পানি ইত্যাদি খাওয়া যায়। কাঁচা আমের শরবত হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

মৌসুমি সবজি অবশ্যই পাতে রাখুন। পটল, লাউ, ঝিঙা, চিচিঙ্গার মতো সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি। এছাড়া এগুলো সহজপাচ্য। নিমপাতা, করলার মতো তেতো খাবারও খেতে হবে। এগুলো সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়। অন্যদিকে ফল হিসেবে তরমুজ, আঙুর ইত্যাদি খেতে পারেন।
এই গরমে মাঝে মাঝে পান্তা ভাত খেতে পারেন। এতে শরীর ঠান্ডা থাকবে এবং পানির ঘাটতি মিটবে। এছাড়া পাতে রাখুন টকদই। শরীরকে ঠান্ডা রাখা এবং শক্তি জোগানোর কাজ করে এই খাবার। দুপুরে শেষপাতে কিংবা ব্রেকফাস্টে টকদই রাখতে পারেন।

গরমে হাই ফাইবার বা মিলেটজাতীয় খাবার হজম করা কঠিন হয়ে যায়। ওটস, কিনোয়া এড়িয়ে চলুন। তার বদলে ভাত, চিঁড়া, সাবু ইত্যাদি খান। এসব খাবারে ফাইবারের পরিমাণ কম হলেও তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়।
এনএম