ফিচার প্রতিবেদক
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ আর উৎসবে কাটাতে রাজধানী ঢাকা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। রমনার বটমূল থেকে শুরু করে উত্তরের উত্তরা কিংবা বনানী—সবখানেই লেগেছে বৈশাখের ছোঁয়া। আপনি যদি আজ দিনভর ঘোরার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আপনার জন্য রইল রাজধানীর সেরা কিছু আয়োজনের খোঁজ।
ঐতিহ্যের টানে যেখানে যাবেন
রমনার বটমূল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সকাল থেকেই ছায়ানটের গানের সুরে মুখরিত রমনা। আর চারুকলা থেকে বের হওয়া বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা তো বৈশাখের প্রাণ। ঐতিহ্যের আমেজ পেতে এই এলাকায় ঢুঁ মারতে পারেন দিনের শুরুতেই।
বিসিক বৈশাখী মেলা (বাংলা একাডেমি): খাঁটি লোকজ মেলার আমেজ পেতে চলে যান বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। মাটির পুতুল, শখের হাঁড়ি আর নকশিকাঁথার সমাহার নিয়ে এই মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
বিনোদনের নতুন কেন্দ্রসমূহ (গুলশান-বনানী-ভাটারা)
লাল বৈশাখী (বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্ক): যারা নাগরদোলা ও বায়োস্কোপের পাশাপাশি আধুনিক মিউজিক পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি সেরা জায়গা। আজ সেখানে গান গাইবেন হাবিব ওয়াহিদ ও নেমেসিস। প্রবেশমূল্য ৩০০ টাকা।
আর্কা বৈশাখ (আলোকি, গুলশান): আধুনিক ও রুচিশীল আয়োজনে ঘেরা এই উৎসবে মিলবে ভোজনালয় ও মিউজিক স্টেজ। প্রবেশমূল্য ৫০০ টাকা।
উৎসবে বৈশাখ (শেফস টেবিল কোর্টসাইড, মাদানী অ্যাভিনিউ): পরিবারের ছোটদের নিয়ে যাওয়ার জন্য এটি চমৎকার জায়গা। আলপনা, পাপেট শো আর বাউল গানের পাশাপাশি এখানে থাকছে জমকালো কনসার্ট।

এসএমই বৈশাখী মেলা (আগারগাঁও): বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ৩শর বেশি স্টল নিয়ে বসেছে এই মেলা। টিয়া পাখির খেলা ও বানর খেলা দেখে সময় কাটবে দারুণ। প্রবেশমূল্য মাত্র ৩০ টাকা।
এয়ার ফোর্স বেইজক্যাম্প (আগারগাঁও): এখানে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে বৈশাখী উৎসব। বায়োস্কোপ, মেহেদি উৎসব আর গ্রামীণ সব খেলার আয়োজনে মেতে উঠতে পারেন রাতের বেলাতেও।
যাত্রাবিরতি (বনানী): একটু ভিন্নধর্মী ও সাংস্কৃতিক আবহ চাইলে বনানীর যাত্রাবিরতিতে যেতে পারেন। সেখানে বাউল গানের পাশাপাশি থাকছে 'সোনার বাংলা সার্কাস' ব্যান্ডের গান।

পুরান ঢাকার আদি আমেজ
পুরান ঢাকার চকবাজার ও সংলগ্ন এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। আদি ঢাকাইয়া খাবার আর লোকজ খেলনার সন্ধানে যারা ঘুরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য পুরান ঢাকা আজ সেরা গন্তব্য।
মনে রাখবেন: উৎসবের ভিড়ে পানির বোতল সাথে রাখুন এবং রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করুন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যানজট থাকতে পারে, তাই হাতে সময় নিয়ে বের হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এজেড