লাইফস্টাইল ডেস্ক
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
বিয়ের সঙ্গে ক্যানসারের যোগ— কথাটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগাই স্বাভাবিক। তবে গবেষণা বলছে, সুস্থ থাকতে চাইলে বিয়ের বিকল্প নেই। কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, ক্যানসারের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতেও বিয়ে করা প্রয়োজন। সম্প্রতি এমন তথ্যই জানা যাচ্ছে ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায়। এতে বলা হয়েছে, অবিবাহিত অর্থাৎ সিঙ্গেলদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি।
গবেষণায় যেসব ব্যক্তি বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসার হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা গিয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও বেশি শক্তিশালী। গবেষণা অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৮৫ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যেসব পুরুষ বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে মলদ্বারে ক্যানসার হওয়ার হার বিবাহিত পুরুষদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। একইভাবে, যেসব নারী বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের হার বিবাহিত নারীদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। ডিম্বাশয় ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে।
ন্যাচার পত্রিকায় প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, মেটাস্ট্যাটিক ব্রেস্ট ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি অবিবাহিত নারীদের মধ্যেই বেশি। মেটাস্ট্যাটিক ব্রেস্ট ক্যানসার বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে ক্যানসারের কোষ স্তনের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।

Sylvester Comprehensive Cancer Center এবং University of Miami Miller School of Medicine-এর যৌগ উদ্যোগে এই গবেষণা করা হয়েছে। আমেরিকার চল্লিশ লক্ষ ক্যানসারের ঘটনা স্টাডি করা হয় গবেষণায়। পাশাপাশি ১০ কোটি মানুষের ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়। কোন রোগী বিবাহিত, কে বিয়ে করেননি, কাদের মধ্যে ক্যানসারের কোষ বৃদ্ধির আশঙ্কা বেশি ইত্যাদি তথ্য ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়।
গবেষকরা বৈবাহিক অবস্থাকে দুই ভাগে ভাগ করেন। এক, যারা বর্তমানে বিবাহিত বা আগে বিবাহিত ছিলেন (যেমন—ডিভোর্সি বা বিধবা) এবং যারা বিয়ে করেননি। এছাড়া গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কখনও বিয়ে করেননি।

গবেষকদের মতে, এই সম্পর্কের পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বিবাহিত মানুষদের পাশে সবসময়ে তাদের সঙ্গীরা থাকে। তাদের পক্ষে নিয়মিত হেলথ চেকআপ করানো, ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং চিকিৎসা করানো সহজ হয়। নিজে সক্ষম না হলেও সঙ্গীর সহায়তার চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে সিঙ্গেল মানুষরা তুলনামূলকভাবে সোশ্যাল আইসোলেশনে (সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন) থাকেন। স্বাস্থ্য নিয়ে তারা খুব বেশি মাথা ঘামান না। তাই শরীরে ক্যানসারের কোষ বাসা বাঁধলেও চিকিৎসা সময়মতো শুরু করেন না।

এছাড়া, বিয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনেরও সম্পর্ক রয়েছে। বিবাহিত মানুষরা স্বাস্থ্য বিমা নিয়েও বেশ সচেতন। গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত মানুষরা অবিবাহিতদের তুলনায় কম মদ্যপান, ধূমপান করেন। এই ফ্যাক্টরগুলো ক্যানসারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এছাড়াও সঙ্গী পাশে থাকলে ক্যানসারের মতো মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করা সহজ হয়। মানসিকভাবে রোগী কম ভেঙে পড়ে।
এনএম