লাইফস্টাইল ডেস্ক
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
ক্রমশ দাম বাড়ছে গ্যাস সিলিন্ডারের। স্বাভাবিকভাবেই রান্নার জন্য বিকল্প খুঁজছেন সবাই। গ্রামগঞ্জে নাহয় মাটির চুলা, স্টোভের দেখা মেলে। কিন্তু শহরাঞ্চলে সেই উপায়ও নেই। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগেরই ভরসা এখন ইন্ডাকশন। কিন্তু মাস শেষে ইলেকট্রিক বিল দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নার পদ্ধতি সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই বিদ্যুতের খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এমন কিছু কৌশল চলুন জেনে নিই-

ইন্ডাকশন তড়িৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের (Electromagnetic fields) মাধ্যমে কাজ করে। তাই রান্নার জন্য সবসময় কাস্ট আয়রন (Cast Iron) বা ম্যাগনেটিক স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন। পাতিলের তলা যদি অসমান বা ট্যারা-বাঁকা হয়, তবে শক্তি আদান-প্রদান ব্যাহত হতে পারে। ফলে বিদ্যুতের অপচয় শুরু হয়।
ইন্ডাকশন খুব দ্রুত পানি গরম করতে পারে। এর মানে এই নয় যে পুরো রান্নাটাই ‘ফুল পাওয়ার’-এ করতে হবে। পানি ফুটে গেলে বা কড়াই গরম হয়ে গেলে পাওয়ার কমিয়ে দিন। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পাওয়ার সেট করে রাখলে এনার্জি স্পাইক বা বাড়তি বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা যায়।

রান্নার সময় কড়াই বা সসপ্যানে ঢাকনা দিয়ে রাখবেন। তাহলে তাপ বাইরে বেরিয়ে যেতে পারবে না। এটি একটি ‘ক্লোজড থার্মোডাইনামিক সিস্টেম’ তৈরি করে। ফলে পানি ফুটতে বা খাবার সেদ্ধ হতে অনেক কম শক্তি খরচ হয়। খোলা পাত্রে রান্না করলে পরিবেশের তাপে প্রচুর শক্তি নষ্ট হয়। এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েলকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।
চাল, ডাল বা যেকোনো শস্য রান্নার অন্তত ৩০ মিনিট আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে দানাগুলো আগে থেকেই নরম হয়ে থাকে (Starch Gelatinisation), ফলে ইন্ডাকশনে বসানোর পর খুব দ্রুত রান্না হয়ে যায়। কম সময় মেশিন চললে স্বাভাবিক ভাবেই বিদ্যুতের ইউনিট কম পুড়বে।

ইন্ডাকশনের গ্লাস-সেরামিক উপরিভাগ সব সময় পরিষ্কার রাখুন। ময়লা বা পোড়া খাবারের স্তর থাকলে ইন্ডাকশন কয়েল এবং বাসনের তলার মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি হয়। এটি চৌম্বকীয় শক্তি স্থানান্তরের পথে বাধা দেয়। পরিষ্কার সারফেস হলে সহজে এনার্জি ট্রান্সফার হয়।
ইন্ডাকশন বন্ধ করার পরেও রান্নার পাতিলের তলায় যথেষ্ট তাপ অবশিষ্ট থাকে। তাই রান্না পুরোপুরি শেষ হওয়ার ২-৩ মিনিট আগেই সুইচ বন্ধ করে দিন। অবশিষ্ট তাপ বা 'রেসিডুয়াল হিট' (Residual Heat) দিয়েই রান্নার বাকি অংশটুকু সম্পন্ন হবে। এতে প্রতিদিন কিছুটা হলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
এনএম