লাইফস্টাইল ডেস্ক
০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
পিরিয়ড কিংবা ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক নিয়মে সামান্য কোনো পরিবর্তন হলেও নারীরা চিন্তায় পড়ে যান। ভাবেন অতিরিক্ত স্ট্রেস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ডায়েটের পরিবর্তনের কারণে হয়ত এমনটা হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে এর জন্য পিসিওএস (PCOS) এর মতো হরমোনঘটিত সমস্যাকে দায়ী করা হয়।
প্রতি মাসেই যদি পিরিয়ড অনিয়মিত হতে থাকে তাহলে তা সত্যিই চিন্তার কারণ। চিকিৎসকদের মতে, এটি জরায়ুর ক্যানসারের কারণও হতে পারে।

জরায়ুর ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় চট করে ধরা পড়ে না। যখন নারীরা সমস্যাটি বুঝতে পারেন, তখন অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। এন্ডোমেট্রিয়াল বা জরায়ুর ভেতরের স্তরে ক্যানসার হলে মাসিকের স্বাভাবিক নিয়মে বড় পরিবর্তন আসে।
সার্ভাইকাল বা জরায়ু ক্যানসারের ক্ষেত্রে অনিয়মিত রক্তপাত, সহবাসে কষ্ট কিংবা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হতে পারে। পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি পেটফাঁপা, তলপেটে ব্যথা কিংবা সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করা এই রোগের উপসর্গ।

১. স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রক্তপাত
২. দীর্ঘস্থায়ী ঋতুস্রাব
৩. দুটি পিরিয়ডের মাঝখানের সময়ে রক্তপাত (Spotting)
৪. মেনোপজ বা মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও হঠাৎ রক্তপাত

প্রচলিত একটি ধারণা হলো, কেবল বয়স্ক নারীদের জরায়ু ক্যানসার হয়। এই ধারণা কিন্তু ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, ৩০-এর আশেপাশে থাকা নারীরাও এখন জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন।
অনেকসময় নারীরা পিরিয়ড চলাকালীন ব্যথা বা অতিরিক্ত রক্তপাতকে 'স্বাভাবিক' বলে মেনে নেন। লজ্জার কারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন না। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়ে যায়।

যদি পিরিয়ডের এই পরিবর্তন একটানা তিন মাসের বেশি স্থায়ী হয়, ওজন কমে যায় বা অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) দেখা দেয় তাহলে পরীক্ষা করাবেন। আল্ট্রাসাউন্ড, প্যাপ স্মিয়ারের (Pap Smear) মতো সাধারণ কিছু পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়। যত দ্রুত রোগ ধরা পড়বে, চিকিৎসা তত সহজ হবে।
এনএম