images

লাইফস্টাইল

শিশুর অটিজম কেন হয়? জিনগত কারণ নাকি গর্ভকালীন জটিলতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৪ এএম

বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (ASD) নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও অনেক অভিভাবকের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন ঘুরপাক খায়— শিশুর এই অবস্থার জন্য দায়ী আসলে কী? এটি কি পুরোপুরি জিনগত, নাকি গর্ভকালীন কোনো পরিবেশগত প্রভাব এর পেছনে কাজ করে?

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, অটিজমের কোনো একটি নির্দিষ্ট একক কারণ এখনো সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবে গবেষণা বলছে, এটি মূলত জিনগত (Genetic) এবং পরিবেশগত (Environmental) উপাদানের একটি জটিল সংমিশ্রণ।

১. জিনগত প্রভাব (Genetic Factors)

অটিজমের ক্ষেত্রে জিনগত প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। গবেষণায় দেখা গেছে-

বংশগতি: যদি কোনো পরিবারের বড় সন্তানের অটিজম থাকে, তবে পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রেও এর সম্ভাবনা সাধারণের চেয়ে বেশি থাকে।

autism-intro-image-min-09-23

জিনের মিউটেশন: অনেক সময় বাবা বা মায়ের মধ্যে অটিজম না থাকলেও ভ্রূণ গঠনের সময় জিনের আকস্মিক পরিবর্তন বা 'মিউটেশন' অটিজমের কারণ হতে পারে।

বাবার বয়স: গবেষণায় দেখা গেছে, অধিক বয়সে বাবা হওয়া শিশুদের মধ্যে অটিজমের ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে।

২. গর্ভকালীন ও জন্মকালীন সমস্যা (Environmental Factors)

গর্ভকালীন কিছু পরিস্থিতি অটিজমের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হয়, যদিও এগুলো সরাসরি কারণ হিসেবে এখনো শতভাগ প্রমাণিত নয়-

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ: মায়ের গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।

ওষুধের প্রভাব: গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু শক্তিশালী ওষুধের (যেমন: এপিলেপসি বা মৃগীরোগের ওষুধ) সেবন।

Untitled-design-4-5

অপরিণত জন্ম: সময়ের অনেক আগে (Premature birth) শিশুর জন্ম হওয়া বা জন্মের সময় ওজন অনেক কম থাকা।

অক্সিজেনের অভাব: প্রসবকালীন জটিলতার কারণে শিশুর মস্তিষ্কে দীর্ঘক্ষণ অক্সিজেনের অভাব হওয়া।

৩. ভুল ধারণা ও সতর্কতা

অনেকে মনে করেন টিকা (Vaccine) বা মায়ের খাদ্যাভ্যাসের কারণে অটিজম হয়। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বারবার প্রমাণ করেছে যে, টিকার সাথে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া সরাসরি অটিজম ঘটায় না, তবে তা শিশুর সামগ্রিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজম কেন হলো তা নিয়ে অনুশোচনা না করে, শিশুর দ্রুত শনাক্তকরণ বা 'আর্লি ইন্টারভেনশন' এর দিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুর বিকাশে (কথা বলা, সামাজিক মেলামেশা বা চোখের দিকে তাকানো) কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: হাম কেন হয়?

অটিজম মূলত একটি বহুমুখী পরিস্থিতি। জিনগত কাঠামো এবং গর্ভকালীন কিছু সূক্ষ্ম পরিবেশগত প্রভাবের কারণে শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ভিন্নভাবে বিকশিত হয়। সঠিক থেরাপি এবং সামাজিক সহযোগিতার মাধ্যমে অটিজম আক্রান্ত শিশুরা একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন কাটাতে সক্ষম।

এজেড