images

লাইফস্টাইল

সুতা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে শরীরে যা ঘটে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

০১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

দাঁত ভালো রাখতে অনেকেই নিয়মিত ব্রাশ করেন। মাঝেমধ্যে মাউথওয়াশ দিয়েও কুলকুচি করেন। কিন্তু এড়িয়ে যান ফ্লসিং এর বিষয়টি। কেউ কেউ আবার মনে করেন, দাঁতের ফাঁকে সুতা ঢুকিয়ে টানাটানি করলে চোট লাগতে পারে মাড়িতে। ভাবেন, দুই দাঁতের মাঝের ব্যবধানও বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু আসল সত্য কি? 

চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু দাঁত নয়, নিয়মিত ফ্লসিং করলে ভালো থাকে হার্টও। জোরদার হতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। আর কী কী উপকার মেলে? চলুন বিস্তারিত জেনে নিই- 

flossing_1

১. হার্ট থাকে সুরক্ষিত 

গবেষণা অনুযায়ী, মাড়িতে ইনফেকশন বা পেরিওডন্টাইটিস থাকলে সেই ব্যাকটেরিয়া রক্তের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে পৌঁছে যায়। ফলে ধমনীতে ব্লকেজ তৈরি হয়। নিয়মিত ফ্লসিং করলে মাড়ির সমস্যা সেরে যায়। ফলে পরোক্ষভাবে কমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি।

২. বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা 

মাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ইনফেকশন থাকলে ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা সারাক্ষণ সেই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে থাকে। ফলে কমে যায় অন্যান্য রোগের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা। ফ্লসিং করলে স্বাভাবিকভাবে মুখগহ্বরের খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যায়। ফলে বৃদ্ধি পায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

flossing

৩. ডায়াবেটিস থাকে নিয়ন্ত্রণে

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগলে বেড়ে যায় মাড়িতে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফ্লসিং মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 

৪. শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সংক্রমণ রোধ

মুখে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া সহজে লালার সঙ্গে মিশে পৌঁছে যায় ফুসফুসে। ফলে দেখা দেয় নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো জটিল সমস্যা। ফ্লসিং এই ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করে শ্বাসযন্ত্রকে রক্ষা করে। 

flossing_3

৫. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটায় 

সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণা অনুযায়ী, মাড়ির রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া মস্তিষ্কে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন সৃষ্টি করতে পারে। যা পরবর্তীকালে অ্যালঝাইমার্স বা স্মৃতিভ্রংশের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। ফ্লসিং করলে এই ভয় অনেকটাই কমে।

তবে ঘরে থাকা যেকোনো সুতা দিয়ে ফ্লসিং করবেন না। নির্দিষ্ট সুতা দিয়েই কাজটি করা উচিত। নয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে।

এনএম