images

লাইফস্টাইল

মধ্যবয়স্ক নারীদের কেন নিয়মিত বেদানা খাওয়া উচিত? 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

টেলি অভিনেত্রী মিনি মাথুর। বয়স ৫০ পার করলেও গঠনের দিক থেকে এখনও তরুণী। সুস্থ থাকার ব্যাপারে বেশ সচেতন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে মিনি জানিয়েছেন, ৫০ বছর বয়স পার করার পর থেকে তিনি সুস্থ থাকতে নিয়মিত কয়েকটি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। পাশাপাশি ভরসা রাখেন পুষ্টিকর তাজা খাবারে। 

মিনি বলেছেন, মধ্যবয়সী নারীদের জন্য সবচেয়ে ভালো ফল বেদানা বা ডালিম। কারণ, মধ্যবয়সে এসে নারীদের শরীরে যে হরমোনের ওঠাপড়া চলে, তা ঠিক রাখতে সাহায্য করে বেদানা। এই ফল প্রদাহ কমায় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এক কথায়, শরীর ভালো রাখার সব উপাদানই মজুত থাকে বেদানাতে।

dalim_2

পুষ্টিবিদরা কী বলে? 

মিনির সঙ্গে একমত পুষ্টিবিদ থেকে চিকিৎসকরাও। পু্ষ্টিবিদদের মতে, বেদানায় রয়েছে উদ্ভিজ্জ পলিফেনল (এলাজিটানিন এবং এলাজিক অ্যাসিড)। অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া, এই পলিফেনলগুলোকে ইউরোলিথিনে পরিণত করে। ইউরোলিথিন কোষ মেরামতিতে সাহায্য করে, বার্ধক্যের গতি শ্লথ করে। পাশাপাশি, উপাদানটি ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। 

৪০-এর পর নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমতে থাকে। ফলে নারীদের শরীর-মনে নানা রকম বদল হয়। মেজাজেও তার প্রভাব পড়ে। ঘাড়ের কাছে গরম বোধ হয়। বেদানায় থাকা এই উপাদানটি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।

dalim_3

চিকিৎসক কী বলে? 

চিকিৎসকদের মতে, বেদানায় আছে অ্যান্থোসায়ানিন এবং পিউনিকালাজিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা কোষগুলোকে অক্সডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে, শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বেদানার আর কোন গুণ নারীদের জন্য উপকারী? 

বেদানার বিভিন্ন উপাদানে থাকে অ্যারোমাটোজের মতো উৎসেচক, যা অ্যান্ড্রোজেনকে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তরিত করে। পলিফেনল উৎসেচকের ক্ষরণে সাহায্য করে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

dalim_4

বেদানায় আছে প্রদাহনাশক উপাদান। ফল খেলে তার রসে পানির ঘাটতি দূর করে। কেউ যদি নিয়ম করে বেদানার রস খান তাতেও উপকার মিলবে। বেদানার রস রক্তের প্রবাহ ঠিক রাখতে সাহায্য করে, রক্তচাপ বশে রাখা এবং কোলেস্টেরল বা প্লাক জমে ধমনীর সরু হয়ে যাওয়া আটকায়।

৪০ এর পর থেকে নারীদের হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়, প্রদাহজনিত কারণে অস্থিসন্ধিতে ব্যথাও শুরু হয়। বেদানায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, প্রদাহনাশক উপাদান কিছুটা হলেও কোষের ক্ষতি রুখতে পারে। ফলে এই ধরনের সমস্যা খানিক ঠেকানো যায়।

dalim_5

বেদানায় রয়েছে ভিটামিন সি, কে, পটাশিয়াম এবং ডায়েটরি ফাইবার। তবে ফাইবারের উপকারিতা পেতে হলে বেদানা রস করে নয়, খেতে হবে দানা ছাড়িয়ে। ফলটি খেলে হজম ভালো হয়। এছাড়াও বেদানার ক্যালোরির মাত্রা কম। প্রদাহ কমিয়ে, শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে বেদানা।

শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতেও সাহায্য করে বেদানার রস। এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। প্রদাহনাশক উপাদান থাকে বলে ছোটখাটো সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

dalim_6

অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান থাকায় বেদানা ডিম্বাশয়ের কোষের ক্ষতি রুখতে সাহায্য করে। প্রদাহ কমিয়ে হরমোনের ভারসাম্যও বজায় রাখে। নিয়ম করে একটি ছোট কাপের এক কাপ বেদানা খেতে পারেন। কেবল নারী নয়, যেকোনো মানুষের জন্যই বেদানা উপকারি। 

এনএম