লাইফস্টাইল ডেস্ক
১৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
মলত্যাগের সময় কষ্ট হওয়া, ঠিকমতো পরিষ্কার না হতে চাওয়া বর্তমানে খুব সাধারণ সমস্যা। ছোট থেকে বড়— ঘরে ঘরে সবাই এমন সমস্যায় ভোগেন। কোষ্ঠ পরিষ্কার না হলে পেটে গ্যাস জমা, পেট ব্যথা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এই বিষয়গুলোই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ উপসর্গের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে বিপদের ঝুঁকি।
পেটে একটু আধটু ব্যথা, দুই-তিন দিন কোষ্ঠ বা পেট পরিষ্কার না হওয়া এক ব্যাপার। কিন্তু এই সমস্যাই যদি মাত্রা ছাড়ায়, ঘরোয়া খাবার বা পথ্যে না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, কোষ্ঠের সমস্যা যদি মাত্রা ছাড়ায়, কষ্ট না কমতে চায় তখন তা ফেলে রাখা উচিত নয়। সাধারণত দৈনন্দিন যে খাবার খাওয়া হয়, তার অপাচ্য অংশ মল হিসাবে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। মল যদি শরীর থেকে বের না হয় পেটে গ্যাস হতে পারে, শরীরে নানা রকম অসুবিধা তৈরি হবেই।
এসব অসুবিধার অনেকটাই সঠিক খাওয়া-দাওয়া এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের দ্বারা ঠিক করা যায়। কিন্তু এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন ফাইবার জাতীয় খাবার খেয়েও সমস্যার সমাধান হয় না। চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া দরকার—

ঝুঁকি কোথায়?
সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্যকে অবহেলা করলে তা থেকে জটিল সমস্যা হতে পারে। পরিস্থিতি অস্ত্রোপচার পর্যন্ত গড়াতে পারে। শক্ত মল, দিনের পর দিন পেট পরিষ্কার না হওয়ার মতো উপসর্গগুলো বড় সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

সময়মতো সতর্ক না হলে ফেকাল ইমপ্যাকশন, (মলাশয়ে মল পাথরের মতো শক্ত হয়ে আটকে যায়) মলদ্বারে শিরা ফুলে যাওয়া, পায়ুদ্বারে ঘা, তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্তপাতের মতো একাধিক যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কখনও পেটে সংক্রমণ হতে পারে। এমনকী ডাইভার্টিকিউলাইটিস (বৃহদন্ত্রে থলির মতো হয়)-এর মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় কিছু উপসর্গ একদমই অবহেলা করা উচিত নয়।

সমাধান কী?
দৈনন্দিন খাওয়া, হজম ক্ষমতা, পানি খাওয়ার পরিমাণ এবং জীবনযপানের সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পর্কিত। রোজকার খাবারে একটু বেশি করে ফাইবার থাকলে এমন সমস্যার সমাধান সম্ভব। কলা, পেঁপে, পেয়ারা, আপেলের মতো ফাইবার জাতীয় ফল কোষ্ঠ পরিষ্কারে সাহায্য করে।
তালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখুন। পর্যাপ্ত পানি খাওয়াও জরুরি। পানি কম খেলে মল শক্ত হয়ে যায়। শরীরে পানির মাত্রা ঠিক থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে। পাশাপাশি, হালকা শরীরচর্চাও পেট পরিষ্কারে সহায়ক হতে পারে।
এনএম