লাইফস্টাইল ডেস্ক
১১ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
সমাজের প্রতিটি সম্পর্কই সুন্দর। কিন্তু যে সম্পর্কটি ভাষায় ব্যাখ্যা করা কঠিন সেটি হলো বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক। সবচেয়ে মিষ্টি ও পবিত্র সম্পর্ক এটি। কিন্তু সেই সম্পর্কেও তিক্ততা আসতে পারে। বিশেষত সন্তান যখন কৈশোরে পা দেয়। এই বয়সে ছোট-বড় নানা কারণে সন্তান ও বাবা-মায়ের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানের শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত নানা পরিবর্তন আসে। এসময়ে বাবা-মাকে একটু বেশি সংযত ও সংবেদনশীল হতে হয়। নয়তো সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের মতবিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। বাবা-মা হিসেবে এই ভুল করলে ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে আপনাকে। কোন ভুলগুলো থেকে দূরে থাকবেন চলুন জেনে নিই-

সন্তান ছোট বলেই যে ভুল, এমনটা ভাববেন না। সে-ও পরিবারের সদস্য। তাই কোনো বিষয়ে সে মতামত দিলে তা হেলায় ওড়াবেন না। এতে সে দুঃখ পাবে এবং ধীরে ধীরে নিজের মতামত দেওয়া বন্ধ করে দেবে। পাশাপাশি সে নিজের মনের কথা বলতে ভয় পাবে, যা ভবিষ্যতে সাংঘাতিক হতে পারে।
অনেক বাবা-মা অজান্তেই সন্তানকে ছোট বড় কথা বলে বসেন। বিশেষত সকলের সামনে এমন কিছু কথা বলে ফেলেন, যা সন্তানের কাছে অপমানজনক। এক্ষেত্রে আপনি হয়তো নিজের ভুল বুঝতে পারছেন না, কিন্তু সন্তান এতে দুঃখ পায়। পাশাপাশি ক্রমাগত অন্যের সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা করলে ক্রমশ সে আপনার থেকে দূরে সরে যাবে। তাছাড়া এই ধরনের অপমানজনক কথাবার্তা বার বার শুনতে শুনতে সন্তানের আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকে। সে হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে। তাই সন্তানের এত বড় ক্ষতি করার আগে নিজেকে সংযত রাখুন।

ছেলেমেয়ে ছোট হলেও তার সিদ্ধান্ত তাকে নিজেই নিতে দিন। তার সিদ্ধান্তের ওপর বার বার প্রশ্ন তুলবেন না। আপনি বরং পরামর্শদাতা হিসেবে পাশে থাকুন। তাকে ভালো-মন্দ বোঝান। ভুল পথে হাঁটলে কী বিপদ আসতে পারে, তা বোঝাতে পারেন। তাই বলে তার স্বাধীনতায় বার বার বাধা দেবেন না।
এছাড়াও প্রত্যেকের মানুষ ব্যক্তিগত পরিসর রয়েছে। সন্তান ছোট হলেও তাকে সেই স্পেসটা দিন। সন্তান পরাধীনতার ঘেরাটোপে বাঁধার বদলে স্বাবলম্বী করে তুলুন। যাতে ভবিষ্যতে চলার পথে যেকোনো সমস্যা পড়লে সে নিজেই সেখান থেকে বের হতে পারে।
এনএম