লাইফস্টাইল ডেস্ক
০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
অনেকেই ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অফিসে কাজ করে কাটান। এর মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই কম্পিউটারে টাইপ করতে হয়। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় ধরে কিপ্যাড ও মাউস ব্যবহারের ফলে কারও কারও, কখনও আঙুলে, কখনও কব্জিতে, কখনও কনুইয়ে, কখনও কাঁধ ও বাহুর সংযোগস্থলে ব্যথা হয়।
খুব বেশি ব্যথা হলে পেইনকিলার খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মেলে ঠিকই, কিন্তু রোজ রোজ এমন ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন একইভাবে আঙুলের স্নায়ুর ওপর ক্রমাগত চাপ পড়তে থাকলে এমন ব্যথা হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারলে বশে থাকবে আঙুলের ব্যথা।

দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে টাইপ করার পর আঙুলে ব্যথা হলে কী করবেন?
একটানা আধঘণ্টার বেশি টাইপ করবেন না। যে কাজই করুন না কেন, ৩০ মিনিট পর ২ থেকে ৩ মিনিটের জন্য বিরতি নিন। এই অভ্যাসে শুধু যে আঙুলের আরাম হবে তা নয়, বিশ্রাম হবে কোমর, ঘাড়, কাঁধ, চোখেরও।
হাতের নখ খুব বড় হয়ে গেলে কিবোর্ডের সঙ্গে ধাক্কা লাগা স্বাভাবিক। সেই কারণেও অনেক সময় আঙুলে ব্যথা হয়। মাউস নাড়াচাড়া করার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। তাই নখ ছোট রাখাই শ্রেয়।

অনেক সময় বসার দোষেও আঙুলে ব্যথা হয়। কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করতে গেলে চেয়ার-টেবিলের মাপ যদি ঠিক না হয়, সেক্ষেত্রে ঘাড়, কাঁধে চাপ পড়বে। সেখান থেকেই ক্ষতি হয় হাতের স্নায়ুর।
অনেকেই টেবিলের বাইরে অর্থাৎ, শূন্যে হাত ঝুলিয়ে টাইপ করেন। এই অভ্যাসেও কিন্তু হাতের কব্জি, আঙুলে ব্যথা বাড়তে পারে।

আঙুলের ব্যথার নেপথ্যে কার্পল টানেল সিন্ড্রোম বা টেনিস এলবোর মতো রোগও থাকতে পারে। এজন্য সঠিক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে আঙুলে যন্ত্রণা হলেও আঙুল বাঁকাতে কোনো রকম সমস্যা হয় না। অনেকক্ষেত্রেই আঙুলে এমন যন্ত্রণা শুরু হয় যে, আঙুল সোজা করা যায় না। হাতের আঙুল আটকে যাওয়ার এই বিশেষ রোগের নাম ‘ট্রিগার ফিঙ্গার’। যার পোশাকি নাম, স্টেনোসিং টেনোসাইনোভাইটিস। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাতের অনামিকায় এই রোগ প্রভাব ফেলে। তবে অন্যান্য আঙুলও আটকে যেতে পারে।

বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রারাইটিস এবং থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যেই ট্রিগার ফিঙ্গারের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এই সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি বা ইঞ্জেকশন দিতে হতে পারে।
এনএম