লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা করছে। এমনটা হলে প্রথমেই সন্দেহ যায় গ্যাস্ট্রিক-অম্বলের দিকে। গ্যাসের ওষুধ খেয়েও ব্যথা না কমলে শুরু হয় ভয়। হার্টের সমস্যা নয়তো! বুকে ব্যথা মানেই বদহজম বা হার্টের সমস্যা এমনটাই মনে করেন সবাই। ভয়ও পান। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সব বুকে ব্যথার কারণ এক নয়। গ্যাস্ট্রিক বা হার্টের অসুখ ছাড়াও নানা কারণে এই সমস্যা হতে পারে।
বুকে হঠাৎ ব্যথা হওয়া কীসের লক্ষণ? চলুন জেনে নিই-

বুকে ব্যথার কারণ হতে পারে বুকের পেশিতে আচমকা টান লাগা বা খিঁচ লাগা। আমাদের পাঁজরের কাছে থাকে ইন্টারকোস্টার মাসল। বুকের পেশি বা এই পেশিতে টান ধরার কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে।
আবার অনেক সময় ভারী জিনিস তুলতে গিয়ে, বসা কিংবা শোয়ার ভঙ্গির ভুলে, শরীরচর্চা করতে গিয়ে আচমকা টান লাগতে পারে। সেক্ষেত্রেও বুকে ব্যথা হতে পারে। ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ খেতে পারেন। মূলত ২-৩ দিন বিশ্রাম নিলেই এমন ব্যথা কমে যাওয়ার কথা।

কোনো বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগলে, মনে ভয় সৃষ্টি হলে কিংবা প্রবল মানসিক চাপে ভুগলে তা থেকেও বুকে ব্যথা হতে পারে। মানসিক চাপ বাড়লে বুক ধড়ফড় করে। কখনো কখনো পরিস্থিতি তেমন হলে বুকে চাপ লাগার পাশাপাশি তীক্ষ্ম ব্যথাও হয়। বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের গতিও।
এমন সমস্যা হলে সোজা হয়ে বসে জোরে শ্বাস নিন আর ছাড়ুন। বার কয়েক এমন করলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ওষুধও খান।

অনেকসময় নিউমোনিয়া বা বুকে সংক্রমণ হলেও এমন ব্যথা হতে পারে। কাশলে, হাঁচলে বা জোরে শ্বাস নিলেও এক্ষেত্রে বুকে ব্যথা লাগে। ভাইরাল সংক্রমণেও এমন কষ্ট হয়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সঙ্গে জ্বরও থাকতে পারে। এমন অসুখের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
বুকে ব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে গলব্লাডার স্টোন। সকলের যে একই রকম উপসর্গ হয়, তেমন নয়। তবে কারও কারও পেটের সঙ্গে বুকে ব্যথাও হতে পারে। কারও পিঠেও ব্যথা হয়। এই ধরনের ব্যথা ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

আলসার বা ঘা পাকস্থলী বা ডিয়োডেনামের অভ্যন্তরীণ আস্তরণকে নষ্ট করে ফেলে। ফলে শুরু হয় যন্ত্রণা। পাঁজরের নীচে পেটের ওপরে ব্যথা হয় যা কখনও কখনও বুক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষত খালি পেটে ভাজাভুজি বা ঝাল-মশলাদার খাবার খেলে এই সমস্যা বাড়তে পারে।
এনএম