লাইফস্টাইল ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
ইনফার্টিলিটির সমস্যা কেবল নারীদের। এমনটাই ভাবেন অনেকে। এই ধারণা কিন্তু ভুল। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, পুরুষদের মধ্যেও রয়েছে ইনফার্টিলিটির সমস্যা। অতিরিক্ত কাজের চাপ, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের ঘাটতির মতো ছোট-বড় অনেক কারণে কমছে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা।
পুরুষদের মধ্যে মারাত্মক হারে বাড়ছে শুক্রাণুর গুণগত মান খারাপ, শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া—এমন নানা সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধান করতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।
সুষম আহারের মধ্যে আছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও মিনারেল, যা শুক্রাণুর কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি শুক্রাণুর গুণগত মান উন্নত করে। এজন্য শরীরে কোনো পুষ্টির ঘাটতি থাকলে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণেরও পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফোলেট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ডি-এর মতো পুষ্টিগুলো শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে। পাশাপাশি এসব উপাদান অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং শুক্রাণুর গঠন ও স্বাস্থ্য উন্নত করে।

বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ, সবুজ শাকসবজি, মাছ, লেবুজাতীয় ফল, ডিম এবং ডালের মতো খাবারে সহজেই এসব উপাদান পেয়ে যাবেন। ডায়েটে এসব খাবার রাখলে পুরুষদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইল কেবল হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস ডেকে আনে না। এটি ইনফার্টিলিটির সমস্যাও বাড়ায়। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে। ক্রনিক স্ট্রেস, মদ্যপান, শরীরচর্চার অনীহা, ঘুমের অভাব—এসব বিষয় হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়।

ভুল খাদ্য আর ভুল জীবনযাপন ক্রনিক স্ট্রেস কর্টিসল লেভেল বাড়ায় এবং এর জেরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়। অ্যালকোহল সরাসরি শুক্রাণুর গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে। লাইফস্টাইলে বদল আনলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে। মোটামুটি ২-৩ মাসের মধ্যেই স্পার্মের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
স্পার্মের স্বাস্থ্যের উন্নত করতে চাইলে এড়িয়ে চলতে হবে প্রক্রিয়াজাত মাংস, জাঙ্ক ফুড, প্যাকেটবন্দি খাবার। উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার যত কম খাওয়া যায়, ততই ভালো। এমনকী এড়িয়ে চলুন চিনি মেশানো পানীয়ও। অ্যালকোহল ও তামাকজাত দ্রব্য একেবারেই বাদ দিন খাদ্যতালিকা থেকে।
এনএম