images

লাইফস্টাইল

নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চলতি বছর তরুণরা যে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে পারেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

নতুন বছর মানেই নতুন সুযোগ, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত অগ্রগতির হাতছানি। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে ২০২৬ সাল শুরু হয়েছে মাত্র ক’দিন হলো। ক্যারিয়ার, শিক্ষা, পরিবার, সামাজিক দায়িত্ব এবং বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নামই তারুণ্য। আগামীর দিনগুলো তরুণদের কাছে নতুন সম্ভাবনার প্রতীক, যেখানে নিজেদের লক্ষ্য এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। নিজেকে সমৃদ্ধ করতে এবং এই বছরটিকে অর্থবহ করে তুলতে তরুণরা যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দিতে পারেন-

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার

একটা সময় ছিল যখন শুধু কম্পিউটার জানাটাই বড় যোগ্যতা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে চিত্রটা ভিন্ন। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) আমাদের জীবনের অংশ। চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো টুলগুলো কীভাবে নিজের কাজে ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়, তা শেখা এখন জরুরি। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে না, কিন্তু যে মানুষটি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানে, সে পিছিয়ে থাকা মানুষটির জায়গা দখল করে নেবে। তাই প্রথাগত ডিগ্রির পাশাপাশি সফট স্কিল ও এআই টুল ব্যবহারে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে।

career

ক্যারিয়ার ও আর্থিক সচেতনতা

নতুন দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেকেই উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউবা স্টার্টআপ বা চাকরির স্বপ্ন দেখছেন। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতায় শুধু আয় করলেই হবে না, প্রয়োজন আর্থিক ব্যবস্থাপনা বা ‘ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি’ থাকা। ছাত্রজীবন থেকেই আয়ের পাশাপাশি সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং কোথায় বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে, সেই পরিকল্পনা এখন থেকেই শুরু করা উচিত।

রাষ্ট্র সংস্কার ও সচেতন নাগরিকত্ব

তরুণরা এখন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। গত চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তরুণ সমাজের ঐক্যবদ্ধ রূপকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। ২০২৬ সালটি জাতীয় জীবনের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ হতে পারে। তাই আবেগনির্ভর না হয়ে, রাষ্ট্র সংস্কার ও নীতি নির্ধারণে তরুণদের যুক্তিনির্ভর ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজ থেকে অবিচার দূরীকরণ, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে তরুণদের সজাগ দৃষ্টি রাখা এখন সময়ের দাবি।

1752663539

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন

নগরায়ন ও আধুনিকায়নের চাপে পরিবেশ আজ বিপন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব থেকে আমরাও মুক্ত নই। তাই পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও জনসচেতনতামূলক কাজে পরিশ্রমী তরুণদের এগিয়ে আসা জরুরি।

সমাজসেবা ও স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব

প্রকৃতির বিরূপ আচরণে প্রায়ই আমাদের নানা দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। বন্যা বা অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে তরুণরাই সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা সম্প্রসারণ কিংবা মানবাধিকার রক্ষায় এই উদ্যম ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজে প্রশিক্ষণ নেওয়া যেতে পারে।

mental-health

সোশ্যাল মিডিয়া ও মানসিক স্বাস্থ্য

প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপতথ্য। সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার ও অন্যের সাথে নিজের জীবনের তুলনা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। তাই মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সংযত হওয়া প্রয়োজন। তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাও একজন দায়িত্বশীল নেটিজেনের কাজ।

সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন

কথায় আছে, সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। কাজে মনোযোগী হতে হলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা পূর্বশর্ত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চা যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। পরিবার হলো মানুষের মূল শেকড়। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে মানসিক প্রশান্তি মেলে, যা সাফল্যের পথে বড় পাথেয়।

Confident-People

এতকিছুর পরও নিজের শখ বা আগ্রহের জায়গাটি যেন হারিয়ে না যায়। লেখালেখি, ছবি আঁকা, প্রোগ্রামিং, সংগীত বা খেলাধুলা হতে পারে অবসর কাটানোর উত্তম মাধ্যম। তারুণ্যের হাত ধরে ২০২৬ সালটি হোক সম্ভাবনাময়, সাফল্যের ঝুলিতে পূর্ণ হোক বছর।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

এনএম