লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৫ পিএম
শিশুদের গায়ে তেল মালিশ করার কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন বা দেখেছেন। তবে বর্তমানে বড়রাও নিয়মিত তেল মালিশ করছেন। তলপেটে তেল মালিশ করার বিষয়টি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। থাইল্যান্ড, চিন, জাপান, ভিয়েতনামের মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মানুষ স্যালুনে গিয়ে পরিচর্যার এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
কেন সবাই তলপেট মালিশ করাচ্ছে? এর উপকারিতা কী? কাদেরই ই এই কাজটি করানো উচিত নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

সাধারণভাবে মনে করা হয়, তলপেটে তেল মালিশ করলে আরামদায়ক অনুভূতি পাওয়া যায়। এটি ত্বকের জন্য উপকারি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ত্বকের যত্নে নয় স্বাস্থ্যের জন্যও এটি ভীষণ উপকারি। এমনটাই জানা গেছে বিভিন্ন গবেষণায়।
পেটে নির্দিষ্ট গতিতে চক্রাকারে তেল মালিশ করলে ভ্যাগাস নার্ভ উদ্দীপিত হতে পারে এবং পাচনতন্ত্র উন্নত হয়। পাশাপাশি, কোলন শিথিল হয়। ইংরেজি ‘আই’, ‘এল’, ‘ইউ’ অক্ষরের আকারে তেল মালিশ করতে বলা হয়। কারণ, কোলনের যাত্রাপথের সঙ্গে এই অক্ষরগুলোর আকার মিলে যায়। কেউ কেউ ঘড়ির কাঁটার দিকে চক্রাকারে হাত ঘুরিয়ে মাসাজ করেন। সপ্তাহে বেশ কয়েক বার ৫-১৫ মিনিট ধরে তলপেটে তেল মালিশ করলে নানাবিধ উপকার মিলতে পারে।

হাতের আলতো চাপে তলপেট মালিশ করলে অন্ত্রে জমে থাকা গ্যাস, মল বা যেকোনো তরল সহজে বেরিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হয়। ‘দ্য ন্যাশনাল ইস্টিটিউটস অফ হেলথ’ তাদের গবেষণায় কয়েক জন গবেষকের উদ্ধৃতি দিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, তলপেটে মালিশ করলে ভ্যাগাস নার্ভে প্রভাব পড়ে। যা অন্ত্রের গতিময়তা এবং হজমপ্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তেল মালিশ করলে অন্ত্রে বাসরত অণুজীবগুলি শরীরের তাপমাত্রা, পিএইচ ভারসাম্য এবং রক্তে শর্করার মতো যে স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বজায় রাখে, বেঁচে থাকার জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৩ সালে ১৩টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় ৮০০ জনের তলপেটে মাসাজ করা হয়েছিল। দেখা গিয়েছে, তাদের জীবনের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে গিয়েছে।
আরও কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, তলপেটে মালিশ করলে মানসিক ভাবেও সুস্থ বোধ করেন অনেকে। তলপেটের পেশিগুলো আরাম পেলে তা প্যারাসিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে হজমের সমস্যার জন্য দায়ী পেশিগুলো নমনীয় হতে পারে।

উপকারি হলেও চিকিৎসকদের পরামর্শ, যাঁদের পেটে অস্ত্রোপচার হয়েছে বা প্রবল পেটের যন্ত্রণায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগ না করাই ভালো। গুরুতর হজমের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সফল কি না, তা নিয়ে আরও অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এনএম