Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

ই-সিম কী? এই সিমের বাড়তি সুবিধা জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

০৪ মে ২০২৫, ০৩:২৫ পিএম

স্মার্টফোনে এতদিন মোবাইল নম্বর চালাতে ছোট্ট প্লাস্টিকের সিম কার্ড ব্যবহার করাটাই ছিল নিয়ম। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন অনেক ফোনেই সেই ফিজিক্যাল সিমের ডিজিটাল বিকল্প হিসেবে ই-সিম (eSIM) ব্যবহার করা যাচ্ছে। এর জন্য আলাদা করে ফোনে কোনো প্লাস্টিক কার্ড ঢোকাতে হয় না। টেলিকম সংস্থাগুলো বর্তমানে এই পরিষেবা দিচ্ছে।

ই-সিম কী?

eSIM-এর পুরো অর্থ Embedded SIM। এটি ফোনের মাদারবোর্ডের ভিতরে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত থাকা একটি ডিজিটাল সিম ব্যবস্থা। প্রথাগত সিম কার্ডের মতো এটি চাইলেই খুলে অন্য ফোনে লাগানো যায় না। বরং মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রোফাইল ডিজিটাল উপায়ে বা কিউআর কোডের (QR Code) মাধ্যমে ফোনে ডাউনলোড করে সক্রিয় করা হয়। ফিজিক্যাল সিমের মতোই এতে ভয়েস কল, এসএমএস এবং ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার করা যায়।

ই-সিম ব্যবহারের বাড়তি সুবিধাগুলো

১. হারিয়ে যাওয়ার বা ভেঙে যাওয়ার ভয় নেই:

ই-সিম যেহেতু ফোনের হার্ডওয়্যারের ভেতরে ডিজিটালভাবে থাকে, তাই এটি হারিয়ে ফেলা, হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না।

২. চুরির ঝুঁকি কম:

ফিজিক্যাল সিম কার্ড যেমন সহজেই ফোন থেকে খুলে অন্য ডিভাইসে ঢুকিয়ে অপব্যবহার করা যায়, ই-সিমের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। ফোন চুরি হলেও কেউ সহজে সিম কার্ডটি বের করে নিতে পারে না, যা এর নিরাপত্তাকে কিছুটা বাড়ায়।

৩. একই ফোনে ডুয়েল সিমের সুবিধা:

অনেক ই-সিম সমর্থিত ফোনেই একটি ই-সিম এবং একটি ফিজিক্যাল সিম একসঙ্গে চালানো যায়। এর ফলে একই ডিভাইসে খুব সহজেই ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল নম্বর আলাদাভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

৪. বিদেশ যাত্রায় বাড়তি সুবিধা:

বিদেশ ভ্রমণে গেলে ফিজিক্যাল সিম বারবার বদলানোর ঝক্কি থাকে না। ই-সিমের মাধ্যমে নিজের মূল নম্বর সচল রেখেই প্রয়োজনে অন্য কোনো অপারেটরের ডিজিটাল সংযোগ বা ইন্টারন্যাশাল রোমিং প্যাক ব্যবহার করা যায়।

ই-সিম ব্যবহারের আগে যা জানা জরুরি

ফোন সমর্থন: আপনার স্মার্টফোনটি ই-সিম এনাবলড (eSIM-compatible) কি না, তা প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে। সব ডিভাইসে এই প্রযুক্তি কাজ করে না।

সিম পরিবর্তন: আপনার বর্তমান ফিজিক্যাল সিমটিকেও খুব সহজেই সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরের সাহায্যে ই-সিম-এ রূপান্তরিত করে নেওয়া সম্ভব।

ফোন বদল করলে: ডিভাইস পরিবর্তন করলে সমর্থিত নতুন ফোনে অপারেটরের নিয়ম অনুযায়ী ই-সিম ট্রান্সফার বা স্থানান্তরিত করা যায়।

এজেড