Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

রেডিও-কেমো থেরাপি ছাড়াই নির্মূল হবে ক্যানসার, জানুন কীভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

০৩ মে ২০২৫, ০৩:৪৩ পিএম

ক্যানসার নির্মূলে পরিচিত কিছু চিকিৎসা ব্যবস্থা হচ্ছে রেডিওথেরাপি ও কেমো। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা না পড়লে এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয় না। ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার গবেষণায় আশার আলো দেখতে পেলেন তারা। ক্যানসার নির্মূল চেষ্টায় অনেকটাই সফল হলেন। 

গবেষকরা ইমিউনোথেরাপিতে ক্যানসার নির্মূল চেষ্টায় অনেকটাই সফল হয়েছেন। নতুন এক ওষুধ তৈরি হয়েছে যা ক্যানসার আক্রান্তের ওপর প্রয়োগ করলে যন্ত্রণাদায়ক রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এমনটাই দাবি গবেষকদের। 

cancer

‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যানসার রিসার্চ’ (এএসিআর) এর তৈরি করা এই নতুন ওষুধের নাম ডস্টারলিমাব। এই ওষুধটি ক্যানসার চিকিৎসায় আলো দেখাচ্ছে বলেই দাবি গবেষকদের। এই গবেষণা বিষয়ক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এ। 

নতুন এই ওষুধটি খাদ্যনালী, মলদ্বার, কোলন, মূত্রনালির ক্যানসারের চিকিৎসায় কার্যকরী বলে দাবি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০৩ জন ক্যানসার রোগীর ওপর ওষুধটি প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অনকোলজিস্ট আন্দ্রে সারসেক ও চিকিৎসক লুইস ডিয়াজ।

cancer2

ইমিউনোথেরাপি কী?

ক্যানসার চিকিৎসায় ক্রমেই জনপ্রিয়তা বাড়ছে ইমিউনোথেরাপির। এটি একটি নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি। কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের বাইরে এই চিকিৎসা আশার আলো দেখাচ্ছে বহু ক্যানসার রোগীকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় প্রতি পাঁচ জনে এক জন ক্যানসারে আক্রান্ত। ২০২২ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ২ কোটি মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। আর ক্যানসারের চিকিৎসা মানেই আতঙ্ক। রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপিতে রোগীর যন্ত্রণা বাড়ে। ক্যানসার কোষগুলোর পাশাপাশি সুস্থ কোষগুলোরও ক্ষতি হতে থাকে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। 

রোগীর এই যন্ত্রণা কমাতেই সাহায্য করে ইমিউনোথেরাপি। এই চিকিৎসাপদ্ধতি রোগীর শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজ কেবল জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করাই নয়, কোষ ও কলাগুলো যাতে সুবিন্যস্ত, সুগঠিত থাকে তার উপর নজর রাখা।

cancer3 

ক্যানসার হলে শরীরে কিছু কোষের স্বভাব, মতিগতি বদলে যেতে থাকে। তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিকাঠামো ভেঙে যায়। তখন নিজের শরীরের কোষই বদলে গিয়ে শত্রু হয়ে যায়। তখন বাইরে থেকে ওষুধ, রেডিয়েশন দিয়ে সেই কোষগুলোকে নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা হয়। এতে সুস্থ কোষগুলোরও ক্ষতি হয়। 

ইমিউনোথেরাপি এসব না করে বরং শরীরের প্রতিরোধের কাঠামোটিকেই নতুন করে সাজায়, যাতে প্রতিরোধী কোষগুলো আবার জেগে উঠে লড়াই করতে পারে। এতে পাকাপাকিভাবে ক্যানসার কোষগুলোকে নির্মূল করা সম্ভব হয়। শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধশক্তিও সতেজ হয়ে ওঠে। তার জন্য কিছু ওষুধ খেতে হয় কেবল। নতুন ওষুধটিও এইভাবেই ক্যানসার নির্মূলে কাজ করে বলে দাবি গবেষকদের। 

এনএম