Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

ছেলেবেলার অপর্যাপ্ত ঘুম বয়ঃসন্ধিতে যে জটিল রোগের কারণ হতে পারে 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

১৩ মে ২০২৪, ১২:১৩ পিএম

বাচ্চার ঘুম নিয়ে মায়ের অভিযোগের শেষ থাকে না। কেউ রাতে একদমই ঘুমাতে চায় না। আবার কারোর ঘুম ভীষণ পাতলা। দিনের বেলায় যে ঘুমিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ হয়, এমনটাও নয়। শিশুকালের এই অপর্যাপ্ত ঘুমই পরবর্তীতে জটিল রোগের কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

গবেষণা বলছে, দিনের পর দিন অপর্যাপ্ত ঘুম বয়ঃসন্ধিতে ‘সাইকোটিক ডিজঅর্ডার’ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। ছয় মাস থেকে সাত বছর বয়সি ১২,৪০০ শিশুর ঘুমের স্বাভাবিক প্রবণতা নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা করেছে ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। 

kid2

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলায় কম ঘুমালে বয়ঃসন্ধিতে কল্পনার জগতে বিচরণ করা বা ‘হ্যালুসিনেট’ করার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘সাইকোটিক ডিজঅর্ডার’ বলা হয়। ‘জার্নাল অফ আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সাইকিয়াট্রি’-তে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, শরীর ও মনের সার্বিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব রয়েছে। একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। তবে, শিশুদের ঘুমের চাহিদা একটু বেশি। শিশুদের মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরি বিষয়। নাহয় ঘটে বিপত্তি। 

kid3

শিশু কম ঘুমালে পাল্টে যেতে পারে মস্তিষ্কের গড়ন। এমনকি কমে যেতে পারে স্মৃতিশক্তিও। বিজ্ঞানীদের মতে, মেধা কমে যাওয়ার পেছনেও দায়ী ঘুমের ঘাটতি। স্থায়ীভাবে মস্তিষ্কের এই গড়ন পাল্টে যাওয়ার কারণে শিশুদের কেউ অবসাদে ভুগছে, কেউ আলস্যে। একই কারণে অনেকে কৈশোরে আসক্ত হচ্ছে নেশায়। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় এমনটাই জানা গেছে। 

গবেষকরা বলছেন, কম ঘুমালে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ঘুমের ‌মধ্যেই মস্তিষ্কের স্মৃতি সঞ্চয় হয়। সারাদিন ধরে আমরা যা শিখছি তা সবই যে মস্তিষ্কের একদিকে জমা হয় তেমনটা কিন্তু নয়। বিষয় নিরিখে ভিন্ন প্রকোষ্ঠে তা সঞ্চিত হয়। ইতিবাচক স্মৃতিগুলো জমে হিপোক্যাম্পাস অংশে। আর নেতিবাচক স্মৃতিগুলো সঞ্চিত হয় অ্যামিগডালা অংশে। ঘুম কম হলে হিপোক্যাম্পাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই গঠনমূলক চিন্তাভাবনাগুলো বেশি দিন মাথায় থাকতে চায় না।

এনএম