Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

যাকে ঘামতে দেখেছি কিন্তু কাঁদতে দেখিনি

লাইফস্টাইল ডেস্ক

১৮ জুন ২০২৩, ০৬:১৮ পিএম

জীবনে চলার পথে মাথার ওপর একমাত্র ছাদ বাবা। দুই অক্ষরের এই শব্দটি উচ্চারণেই কেমন যেন অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করে। তিনি যে শুধু বাবা তা কিন্তু নয়, তিনি একটা বিশাল বটবৃক্ষও বটে। কেন না সমস্ত শক্তি আর সামর্থ্য দিয়ে তিনি আগলে রাখেন আমাদেরকে। কোনোদিনও তিনি বিলাসী জীবনযাপন করেন না। কারণ আমাদের ভালো রাখবেন বলে। যাকে ঘামতে দেখেছি কিন্তু কাঁদতে দেখিনি- তিনিই বাবা।

নেই কোনো ব্যাংক-ব্যালেন্স, নেই কোনো বড় গাড়ি-বাড়ি। এসব কিছুর পরও নিজেকে কোটিপতি বাবার সন্তান বলে মনে করি। কোটিপতি কেন বলছি জানেন? এই মানুষটাই শৈশবকাল থেকে দুঃখের সাগরের ঢেউয়ের সাথে লড়াই করে গেছেন। যেটাকে আমরা জীবন সংগ্রাম বলি। এই জীবন সংগ্রামে একাই লড়েছেন তিনি। তার জননীও তার পাশে ছিল না। ছিল না তার বাবার কাঁধ। তাই আমার বাবা বেশিদূর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করতে পারেননি। কিন্তু বাস্তবতা তাকে টিকে থাকার শিক্ষাটা ভালোই দিয়েছিল।

কথাগুলা লিখতে হয়তো আমার খুব বেশি সময় লাগছে না। অল্প কয়েক মিনিট কী-বোর্ডের বোতাম প্রেস করলেই হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই কথাগুলোই একটি পরিবারের অনেক বছরের ইতিহাস। 

বাবা তার অসম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া আমাদের দিয়েই শেষ করতে চান। তাই এখনো তিনি হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ভাইবোন তিনজনের মধ্যে আমি সবার ছোট। আর আমি তার একমাত্র মেয়ে। সে জন্য বরাবরই তার সবচেয়ে আদরের ছিলাম আমি। কারণ আমার মধ্যে তিনি নাকি তার মাকে খুঁজে পান।

বাবার নেই কোনো চাওয়া-পাওয়া। তার জীবনের খুব কঠিন সময়ে তার কাছে ছিলাম এবং মনের অনেক কথায় বলেছিলেন আমায়। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না’। এই কথা শোনার পর অঝোরে চোখের জলে কেঁদে বলেছিলাম, ‘কী নেই আমাদের? আমাদের যা কিছু দিয়েছ, একটা উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে কম দাওনি। আমাদের কখনো চাওয়া পাওয়া বিশাল ছিল না। আমাদের চাওয়া ছিল তোমার ভালবাসা। আজ আমরা এত দূর এসেছি তোমার জন্য বাবা। তোমার পরিশ্রমের জন্য। তুমি এক যোদ্ধা, এক জীবনযোদ্ধা।’

আমরা সবসময় বাবাদের কথা বলতে পারি না। আমি চাই সবাই তার বাবাকে নিয়ে তাদের মনের কথা লিখুক। ভালবাসার বিশাল জায়গায়ই তো ‘পরিবার’। বুকের কোণায় জমে থাকা একটি শিহরণের নাম ‘বাবা’। যে শিহরণ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বাবার জন্য আমাদের ভালোবাসার কথা বলে শেষ করা যাবে না। ভালো থাকুক পৃথিবীর সব বাবা।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সেশন ২০১৯-২০

এনএম