Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

জোবায়েদ হত্যা মামলায় ছাত্রী বর্ষাসহ তিনজনের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তার ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠন করেছেন বিচারক। আগামী ৯ ডিসেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার তিন আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার তিন আসামি হলেন— জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)। তারা তিনজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। রোববার শুনানির জন্য তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। প্রতিদিনের মতো গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নূর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে যান তিনি।

সেদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে বর্ষা জানান, জোবায়েদ স্যার খুন হয়েছেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মুঠোফোনে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রৌশান ভিলায় যান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান তারা। পরে ভবনের তৃতীয় তলার কক্ষের পূর্ব পাশের সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত।

মামলার প্রায় নয় মাস তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রে বর্ষা, তার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ত্রিভুজ প্রেমের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে।

এমআর/এএস