নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২০ পিএম
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী শিশির মনির জানান, মামলায় যেসব ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবই জামিনযোগ্য অপরাধ।
তিনি বলেন, উনার বয়স ৭৩ বছর এবং তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ইতোমধ্যে প্রায় এক মাস কারাভোগ করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।
আইনজীবী জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে মামলার এজাহার পড়ে শোনায় এবং মারধরের (অ্যাসল্ট) অভিযোগের কথা উল্লেখ করে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ছাড়া অন্য কোনো গুরুতর ঘটনা ঘটেনি বলে আদালতে তুলে ধরা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই তিনি কারামুক্ত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তার আইনজীবী।
এর আগে গত ২ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।
গ্রেফতারের পরদিন আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ৪ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতেও তার জামিন আবেদন খারিজ হলে হাই কোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। ইমিগ্রেশন শেষে তারা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্টে যান। যাত্রীর অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রলি সংকট দেখা দিলে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এজাহারে আরও বলা হয়, লাগেজ পেতে বিলম্ব ও জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে অশোভন আচরণ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
আরএনবি/এআরএম