Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ এএম

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আজ রোববার।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, মামলায় ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সপক্ষে আজ যুক্তি তুলে ধরবে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে গত ৭ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আজকের দিন নির্ধারণ করেন।

এ মামলায় গ্রেফতার থাকা ১১ আসামির মধ্যে ৯ জনকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা রয়েছে। তবে অসুস্থতার কারণে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। 

এছাড়া মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ভার্চুয়ালি শুনানিতে যুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার থাকা ১১ আসামি হলেন—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক সাংবাদিক ফারজানা রূপা।

মামলায় শেখ হাসিনাসহ বাকি ৩০ জন পলাতক রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার।

তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন—সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ; তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম।

তালিকায় আরও আছেন—ডিএমপির তৎকালীন ডিসি (সদর দপ্তর) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন এডিসি (মতিঝিল) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন এডিসি মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বি এম ফরমান আলী।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় তাদের হদিস না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আদালতে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করে। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাদের পলাতক ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৭ জুলাই এই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি মূল অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরএনবি/এআরএম