নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ এএম
বিদেশে আইনি সংকটে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন করা হয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় রুল ও নির্দেশনা চেয়ে এ আবেদন করা হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ বাদী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিটটি দায়ের করেন।
রিটে পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জেদ্দায় কনসাল জেনারেল এবং সেখানকার বাংলাদেশ মিশনের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, বিদেশে আটক বা বিচারাধীন নাগরিকদের যথাসময়ে কনস্যুলার সহায়তা প্রদানে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নিজ নিজ আইনি দায়িত্ব পালনে বিবাদীদের ওপর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়।
পাশাপাশি রিটে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের সব বাংলাদেশি মিশনে বিশেষ নির্দেশনা পাঠাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আদেশ চাওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনার আওতায় থাকবে—
বিদেশে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশিদের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা;
আপিল কিংবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আবেদনের শেষ সময়সীমা শনাক্ত করা;
প্রতিটি মামলার জন্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করা; এবং
আইনগত কাঠামোর মধ্যে দ্রুত কনস্যুলার যোগাযোগ ও নাগরিক সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এছাড়া সৌদি আরবে আলোচিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোর কাছে কী কী নথিপত্র ছিল এবং তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছিল— তা ব্যাখ্যা করে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে আদালতে হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) দাখিলের আর্জি জানানো হয়েছে।
রিট আবেদনে যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়, বিদেশে গ্রেফতার বা সাজাপ্রাপ্ত প্রবাসীদের পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে জরুরি মুহূর্তে কূটনৈতিক ও কনস্যুলার মিশনের সক্রিয় ভূমিকা রাখা আবশ্যক।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোর প্রতি দৃষ্টি রেখেও প্রশ্ন থেকে যায়— প্রয়োজনীয় আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা যথাসময়ে দেওয়া হয়েছিল কি না। পুরো বিষয়টি সরকারি নথির আলোকে পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে স্পষ্ট করা হয়, এই রিটের মাধ্যমে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র কিংবা আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদেশ চাওয়া হয়নি; বরং বিদেশে নাগরিকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর আইনি দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরএনবি/এএইচ