নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে না পেরে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ছেলে শরীয়ত উল্লাহকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণে ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোস্তফা সারওয়ার এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন সিদ্দিকী।
রায়ের বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সিদ্দিকী বলেন, ‘এ মামলার মূল প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছিলেন হামলায় আহত আসামির মা নাসিমা খাতুন। কিন্তু তিনি বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তার ছেলে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে তাদের কুপিয়েছিল। চাচাদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।’
তিনি আরও জানান, মামলার বাদী (আসামির ভাই সাদিকুল্লাহ) ঘটনার সময় বাড়িতে বা এলাকায় ছিলেন না। পরবর্তীতে এসে তিনি চাচাদের বরাতে মামলা দায়ের করেন। ফলে মামলায় কোনো নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছিল না।
এ ছাড়া আসামির কথিত ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘জবানবন্দির মেমোরেন্ডাম যথাযথ নিয়মে পূরণ করা হয়নি। এমনকি জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটও জেরার মুখে আসামিকে পূর্বপরিচয়ের দাবি করেন, যা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। মামলা হওয়ার আগেই আসামিকে আটকের তথ্যও পর্যালোচনায় আসে। সার্বিক নথি ও মায়ের সাক্ষ্য বিবেচনায় আদালত আসামিকে খালাস দিয়েছেন।’
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে গফরগাঁও উপজেলার ডুবাইল গ্রামে নিজ বাড়িতে বাবা ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ ও মা নাসিমা খাতুনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ মার্চ মারা যান ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ।
অভিযোগ আনা হয়েছিল—পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শরীয়ত উল্লাহ ঘুমন্ত মা-বাবার ওপর এ হামলা চালান। এ ঘটনায় ১৫ মার্চ নিহতের অপর ছেলে সাদিকুল্লাহ বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. নুরুল আমিন বিপ্লব আসামি শরীয়ত উল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে এবং আসামি পক্ষ আপিল করে।
মঙ্গলবার চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে তাকে খালাস দেন।
আরএনবি/এএম