নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।
আগামী ২৯ নভেম্বর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এ দিন ধার্য্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিন মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি করার কথা ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান অসুস্থ থাকায় এবং অপর আইনজীবী তবারক হোসেন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করায় শুনানি পেছানোর আবেদন করে আসামিপক্ষ। তারা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় প্রার্থনা করেন।
তবে শুনানিতে এর বিরোধীতা করে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ অলি মিয়া বলেন, আসামিপক্ষ ইতোমধ্যে একাধিকবার সময় নিয়েছে। ফলে নতুন করে সময় দেওয়া যৌক্তিক নয়। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আগামী ২৯ নভেম্বর শুনানির দিন ঠিক করেন।
এদিন শুনানির শুরুতে সকালে গ্রেপ্তার চার আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান।
মামলায় শেখ হাসিনাসহ পলাতক অপর সাত আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
গত ২৬ জুলাই প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণ করতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা হাজির হননি। পরবর্তী সময়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে ওই রাতেই টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় র্যাবের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার মৃত্যু হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, সাজানো বন্দুকযুদ্ধে হত্যা এবং অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
আরএনবি/এসআই