Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

৫ জেলায় পুকুর দখল-ভরাট বন্ধে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম জেলা শহরে পুকুর অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই পাঁচ শহরে রেকর্ডভুক্ত কতগুলো পুকুর রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পাশাপাশি আদালত চার সপ্তাহের একটি রুল জারি করেছেন। রুলে ওই পাঁচ জেলা শহরে থাকা রেকর্ডভুক্ত পুকুরগুলো রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং সেগুলো সংরক্ষণে কার্যকর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারা মেনে পুকুর বা জলাশয়ের বৈশিষ্ট্য বা শ্রেণি পরিবর্তন করেছেন, কেবল তারা ছাড়া বাকি সব অবৈধ দখলদার ও ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না-তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালত অন্তর্বর্তীকালীন এক আদেশে পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্ব-স্ব জেলায় সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠিত হবে।

রেকর্ডভুক্ত কোনো পুকুর যেন নতুন করে দখল বা ভরাট না হতে পারে, সে বিষয়ে এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন (কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট) দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের অপর এক নির্দেশনায়, ওই পাঁচ শহরে সিএস বা আরএস রেকর্ড অনুযায়ী ঠিক কতগুলো পুকুর রয়েছে, তার তালিকা হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) আকারে তিন মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নূর মোহাম্মদ আজম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) এস এম ইমামুল মুশফিকুর।

শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইন ও ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনো পুকুর বা জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন, দখল কিংবা ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও সিলেটে শত শত পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে মর্মে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় এসব পুকুর অবিলম্বে রক্ষা করা জরুরি।’

একটি জাতীয় দৈনিকে জলাশয় দখল নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এইচআরপিবির পক্ষে মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, আইনজীবী রিপন বাড়ই ও সঞ্জয় মণ্ডল এ রিট আবেদন করেন।

রিটে পরিবেশ সচিব, অর্থ সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেলার ডিসি ও এসপিসহ মোট ১৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আরএনবি/এমআর