নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একইসঙ্গে এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
মামলার অপর আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলমকে এদিন সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানিকালে তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তি দিয়েও হাজির হননি ধনঞ্জয়
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ট্রাইব্যুনালকে জানান, এ মামলায় গ্রেফতার জাহাংগীর আলম আদালতে উপস্থিত রয়েছেন।
অপর আসামি ধনঞ্জয় কুমার দাসকে আত্মসমর্পণের জন্য গত ৬ অক্টোবর দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
বিজ্ঞপ্তিতে রোববার হাজির হওয়ার দিন ধার্য থাকলেও ধনঞ্জয় আত্মসমর্পণ করেননি। ফলে পলাতক বিবেচনায় তার পক্ষে ‘স্টেট ডিফেন্স’ আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্যের আবেদন জানান প্রসিকিউটর ফারুক।
অন্যদিকে শুনানিতে জাহাংগীর আলমের আইনজীবী অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনো তাদের সরবরাহ করা হয়নি। এসব কাগজপত্র পর্যালোচনা ও শুনানির প্রস্তুতির জন্য তিনি দুই মাস সময় প্রার্থনা করেন।
উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল পলাতক ধনঞ্জয় কুমার দাসের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন এবং অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে যে হত্যাযজ্ঞ চলেছে, তাতে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় ছাড়াও উসকানি, প্ররোচনা ও সরাসরি ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম ও সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে।
আরএনবি/এএইচ