Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

আমু-ফারুকসহ সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ‘প্রায় প্রস্তুত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পিএম

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) ‘প্রায় প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

চিফ প্রসিকিউটর অনুমোদন দিলেই এসব অভিযোগপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

যাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

প্রসিকিউটর তামীম বলেন, ‘তাদের প্রত্যেকের তদন্ত প্রতিবেদনই প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। আমরা ফরমাল চার্জ প্রায় প্রস্তুত করে ফেলেছি। চিফ প্রসিকিউটর স্যার অনুমোদন দিলেই এই ফরমাল চার্জটা আমরা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করব। খুব অল্প সময়ে আপনারা এই ফরমাল চার্জটা দেখতে পাবেন।’

জুলাই আন্দোলনে বিচার পরিচালনার স্বার্থে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন প্রসঙ্গে তামীম বলেন, ১৯৭৩ সালের আইনের ৩(১) ধারায় এটি প্রণয়নের আগে ও পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারের বিধান রাখা হয়েছিল।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে আইন সংশোধন করে বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্র্বতী সরকার আইনটিতে আন্তর্জাতিক আইনের আধুনিক সংজ্ঞা ও বিধান যুক্ত করে আরও সংশোধন আনে।

প্রসিকিউশনের দাবি, এসব সংশোধনের ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত হয়েছে এবং এর সুবিধা আসামিপক্ষও পাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- জুলাই আন্দোলন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে কিছু অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যেসব অভিযোগ এই ট্রাইব্যুনালের আইনের আওতাভুক্ত নয়, সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর তামীম বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা সারাদেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করছেন।

বাংলাদেশে এর আগে কোনো রাজনৈতিক দলের এভাবে বিচার হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলটির কার্যক্রম থাকা বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য স্থানের তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ কারণে তদন্তে সময় লাগবে। তবে তদন্ত শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়।’

মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আদালতে বিচার চলা নিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত ফৌজদারি অপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। আইন অনুযায়ী, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে উভয় বিচার সমান্তরালে চলতে কোনো আইনি বাধা নেই।

আরএনবি/এএইচ