Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের জামিন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের অর্থ আত্মসাতের বহুল আলোচিত মামলায় কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের জামিন আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

এর ফলে আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত তার জামিন আর কার্যকর থাকছে না।

সোমবার (১২ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই আদেশ দেন। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে নজরুল ইসলামের জামিন আদেশ বাতিল চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদনের শুনানি নিয়েই চেম্বার আদালত জামিন স্থগিতের এই আদেশ দেয়।

মামলাটির সূচনা হয় ২০২২ সালে। ওই বছর ঢাকার শাহবাগ থানায় ফারইস্টের আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে নজরুল ইসলামসহ মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার ঘটনাপ্রবাহ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রথমবার গ্রেপ্তার হন নজরুল ইসলাম। প্রায় তিন মাস কারাবাসের পর ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পরে জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর আদালত তার জামিন বাতিল করে ফের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর একই বছরের ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে তিনি অন্তর্র্বতীকালীন জামিন পান এবং ১৩ আগস্ট তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হয়।

এই মামলায় নজরুলের গ্রেফতার, রিমান্ড, কারাবাস ও জামিনের ঘটনায় মামলাটি বহুবার নতুন মোড় নিয়েছে। সর্বশেষ হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর এটি ফের আলোচনায় আসে।

এদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির প্রায় ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নজরুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত সুভাষ চন্দ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সজিব আহমেদ বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। পরে গত ৬ অক্টোবর মামলার বিষয়টি সামনে আসে।

সোমবার জামিন স্থগিতের এই আদেশ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। এটি মূলত জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানি পর্যন্ত একটি অন্তর্র্বতী ব্যবস্থা। আগামী ১৬ নভেম্বর আদালত আবেদনটি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে নজরুলের পরবর্তী আইনি অবস্থা। 

আরএনবি/এএইচ