নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় সাক্ষীকে উদ্দেশ করে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলে মন্তব্য করেন। এ সময় তাকে থামিয়ে দেন বিচারক। একই সঙ্গে তাকে কথা কম বলারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।
এদিন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিচ্ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।
কাঠগড়ায় বাদানুবাদ
জবানবন্দির একপর্যায়ে সাক্ষীকে একটি প্রশ্ন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। বিষয়টি ভূতাপেক্ষ কি না, তা জানতে চাইলে সাক্ষী প্রথমে ইতস্তত করলেও পরে তাতে সম্মতি দেন।
ঠিক তখনই কাঠগড়া থেকে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে পলক বলে ওঠেন, এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন। এখানে আমার বিচার হচ্ছে। ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে এখানে আসিনি।
এ সময় প্রসিকিউটর তামিম আপত্তি জানিয়ে বলেন, এখানে আসামিপক্ষের আইনজীবী রয়েছেন। হুটহাট কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অনুমতি না নিয়ে কোনো আসামি এভাবে কথা বলতে পারেন না।
এ নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে প্রসিকিউশনের বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল পলককে উদ্দেশ করে বলেন, রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন। তাই কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে।
জবাবে পলক বলেন, তিনি অযৌক্তিক কিছু বলেননি। আদালত তখন সবাইকে ব্যক্তিগত বিষয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।
‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’
এরপর আবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। জবানবন্দিতে সাক্ষী মাহদী আমিন বলেন, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলকের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে থ্রি-জি ও ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন এই বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে বলে, কথাটি আলোচনা সাপেক্ষে এলেও এই মামলার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা নেই। অংশটি বাদ দেওয়ার আবেদন জানালে সাক্ষীও তাতে সায় দেন।
তখন কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীর উদ্দেশে বলে ওঠেন, ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল পলককে থামিয়ে দিয়ে বলেন, একটু বসতে পারেন। কথা কম বলেন দয়া করে।
পরে অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, প্রসিকিউটর মহোদয় সাক্ষীকে প্রশ্ন করে জবানবন্দি নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এটা বাদ দিতে হলে হোস্টাইল (বৈরী) করতে হবে।
পরে জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয় বলে তিনি শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে তিনি নিজে জানতেন না। ২৮ জুলাইয়ের সভার মাধ্যমেই তিনি ইন্টারনেট চালুর বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
আদালতে পলকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। আর পলাতক সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মনজুর আলম উপস্থিত ছিলেন।
কী আছে অভিযোগে
প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগে বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান পলক। এর জেরে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ।
এ ছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও উসকানি দেওয়া এবং হত্যায় সহায়তার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হন। উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এই মামলায় প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
আরএনবি/এআর