Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

উত্তরায় মুগ্ধসহ ১১ হত্যা: সাবেক এমপি হাবিবসহ ২৬ জনের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসানসহ ২৬ জনের বিচার শুরু হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর এ আদেশ দেন।

একইসঙ্গে আগামী ৪ নভেম্বর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেছে আদালত। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের এক সদস্য অসুস্থ থাকায় সেদিন তারিখ পিছিয়ে ১১ অক্টোবর ঠিক করা হয়েছিল।

রোববার ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম ও সহিদুল ইসলাম সরদার। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত  আইনজীবী সুলতান মাহমুদ ও আবুল হাসান।

এদিন সকালে গ্রেফতার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগ দুটি বাংলায় পড়ে শোনান বিচারক।

অভিযোগ পড়া শেষে আসামিদের কাছে তারা ‘দোষী নাকি নির্দোষ’ তা জানতে চাওয়া হয়। এ সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন তারা। পরে আদালত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

কী আছে অভিযোগে

প্রসিকিউশনের আনা দুটি অভিযোগ এদিন আদালতে তুলে ধরা হয়। এসব ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত’ মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুলাই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও এর আশপাশে আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যা করা হয়।

সেদিন উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর জখমের কথাও বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, পরদিন ১৯ জুলাই একই এলাকায় পুনরায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চারজনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়।

কাঠগড়ায় যারা, পলাতক যারা

এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আট আসামি হলেন- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।

মামলায় সাবেক এমপি হাবিব হাসান ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ বাকি ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।

পলাতক অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, এসআই খালেদ আনোয়ার, এএসআই মো. রোকনুজ্জামান ও কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম।

পলাতক রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. ফরিদ আহমেদ, ডিএম শামীম, মো. আনিছুর রহমান নাঈম, মো. আফছার উদ্দিন খান এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, মুরতাফা বিন ওমর ও জাকির হোসেন।

আরএনবি/এআর