নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে ‘পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সাজার বৈপরীত্য’ বা সাংঘর্ষিক অবস্থান রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। এ কারণে আজ তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের দাবি, ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে আসামির অপরাধের যে ভয়াবহতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে, সে অনুযায়ী তাকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড ‘অপ্রতুল’।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আপিল শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রসিকিউটর গাজী জি এইচ তামিম।
আপিলের বিষয়ে তামিম জানান, ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন যে ইনু শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথন করেছেন, কীভাবে আন্দোলন দমন করা যায় এবং কারফিউ জারির ব্যাপারে ষড়যন্ত্র করেছেন। কারফিউ জারি করে হত্যা ও গ্রেফতারের পরামর্শ দিয়েছেন। এসব ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতিতেই জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনাল স্বীকার করলেও সাজা দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ বছরের। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে এই সাজা প্রদানের বিষয়টি সাংঘর্ষিক (কন্ট্রাডিক্টরি)।
ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুযায়ী, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই আবেদন করা হয়েছে। এতে মোট ১১টি যুক্তি (গ্রাউন্ড) তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন।
আপিলে ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আরজির পাশাপাশি যেসব অভিযোগে ইনুকে ট্রাইব্যুনাল খালাস দিয়েছিল, সেগুলোতেও সর্বোচ্চ শাস্তির প্রার্থনা করা হয়েছে।
তামিমের দাবি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি রীতিনীতি (জুরিসপ্রুডেন্স) অনুযায়ী সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে অপরাধের ভয়াবহতা (গ্র্যাভিটি অব অফেন্স) ও বিস্তৃতি (স্কেল অব অ্যাটাক) বিবেচনা করতে হয়। জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞে কী পরিমাণ মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং এ নিয়ে সমাজের মানুষের যে প্রত্যাশা বা আর্তনাদ, তা ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রতিফলিত হয়নি।
আপিলে আন্তর্জাতিক আইনের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, একজন সামরিক কমান্ডারের চেয়ে ইনুর মতো একজন বেসামরিক ঊর্ধ্বতন নেতার (সিভিলিয়ান সুপেরিয়র লিডার) নির্দেশের প্রভাব অনেক বেশি। সামরিক কমান্ডারের নির্দেশ অধস্তনরা মানতেও পারে, আবার নাও মানতে পারে।
কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতা যখন তার অধীনস্থদের নির্দেশ দেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, তখন তা শুধু নির্দেশ থাকে না, বরং তা অপরাধ সংঘটনের একটি বড় রূপ ও পরিবেশ তৈরি করে দেয়, বলা হয় আপিলে।
এসব যুক্তির ভিত্তিতে প্রসিকিউশনের দায়ের করা আপিলটি গ্রহণ করে আসামি হাসানুল হক ইনুকে ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীন সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আরজি জানানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে।
আরএনবি/এআর