নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
রাজধানীর গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ সারাদেশে রাত ১১টার মধ্যে বার ও অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ নিশ্চিত করতে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন করা হয়েছে।
পাশাপাশি অনুমোদনহীন মদ বিক্রি, শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই রিটে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আইনজীবী এস এম জুলফিকুর আলী জুনু নিজে (পিটিশনার-ইন-পার্সন) এই রিট দায়ের করেন।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনারসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
কী বলা হয়েছে রিটে?
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, যেসব বারের লাইসেন্স বা সরকারি প্রজ্ঞাপনে বন্ধের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া আছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশে বর্তমানে বার বন্ধের কোনো অভিন্ন জাতীয় সময়সীমা না থাকলে, রাত ১১টার মধ্যে বার ও অ্যালকোহল পরিবেশন বন্ধ করার একটি অভিন্ন নীতি চালু করা যায় কিনা, তা বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
তবে রিটকারী স্পষ্ট করেছেন, রাত ১১টা বর্তমানে সারাদেশের সব বারের জন্য বাধ্যতামূলক— এমন দাবি তিনি করছেন না; বরং যেখানে অভিন্ন সময় নেই সেখানে ১১টার নীতি প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
অবৈধ মদ বিক্রি ও শুল্ক ফাঁকি
গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাইসেন্স ছাড়া বা শর্ত ভঙ্গ করে মদ বিক্রি এবং পারমিটবিহীন ব্যক্তিদের কাছে অ্যালকোহল পরিবেশনের অভিযোগ আনা হয়েছে রিটে।
এতে বলা হয়, কোনো হোটেল বা রেস্তোরাঁ পরিচালনার সাধারণ অনুমোদন থাকলেই তা মদ বিক্রির লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না। পাঁচ তারকা বা বিলাসবহুল হোটেলের ক্ষেত্রেও পৃথক অ্যালকোহল লাইসেন্স থাকতে হবে।
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ও চোরাচালানের মাধ্যমে আনা অবৈধ অ্যালকোহল জব্দের জন্য কাস্টমস ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো মদ অবৈধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তা জব্দের কথা বলা হয়েছে।
ডিজে পার্টি ও নজরদারি
কিছু হোটেল, ক্লাব ও বিনোদনকেন্দ্রে অনুমোদনহীন ডিজে অনুষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। রিটে গুলশান, বনানী ও উত্তরায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও পরিদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সারাদেশে একই ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আরজি জানানো হয়েছে।
অবৈধ মদ ব্যবসা ও শুল্ক ফাঁকি রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, পুলিশ, এনবিআর ও কাস্টমসের মধ্যে কার্যকর ‘আন্তঃসংস্থা সমন্বয়’ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ যেন অবৈধ বার ও পারমিট ছাড়া মদ বিক্রির অভিযোগ জানাতে পারে, সেজন্য একটি স্বচ্ছ অভিযোগ ব্যবস্থা চালুর আবেদন করা হয়েছে।
রিটকারী আদালতকে অনুরোধ করেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যাতে একটি ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কয়টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে, কতগুলো লাইসেন্স ছাড়া চলছে, কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কী পরিমাণ অবৈধ মদ জব্দ করা হয়েছে— তার বিস্তারিত তথ্য ওই প্রতিবেদনে থাকতে হবে।
এ ছাড়া রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে রিটের শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী এস এম জুলফিকুর আলী জুনু।
আরএনবি/এফএ