নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা সংশোধন করে ডোপ টেস্টে ‘পজিটিভ’ হওয়া বা পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের নির্বাচনে কেন অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি। তিনি নিজেই এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদেশের পর আইনজীবী ইসরাত জাহান সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান নির্বাচনী আইন ও বিধিমালায় প্রার্থীদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ সরকারি চাকরিজীবী বা পুলিশ সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক।
তিনি বলেন, আমি একজন করদাতা। আমাকে যিনি প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাকে অবশ্যই মাদকমুক্ত ও সুস্থ মানসিকতার (সাউন্ড মাইন্ড) হতে হবে। জনপ্রতিনিধিরা মাদকাসক্ত হলে তারা জনগণের অধিকার আদায় করতে পারবেন না।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সরকারি স্বীকৃত ল্যাবরেটরি বা হাসপাতাল থেকে ডোপ টেস্টের সনদ জমা দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই আইনজীবী।
তিনি বলেন, মনোনয়নপত্রে অনেকগুলো শর্ত থাকে, সেখানে ডোপ টেস্টের শর্তটিও যুক্ত করা উচিত। সরকারি হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করে কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি মাদকমুক্ত, তবেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
ডোপ টেস্ট প্রার্থীর জন্য সম্মানহানিকর কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসরাত জাহান বলেন, কেউ মাদকাসক্ত না হলে এতে তার আত্মসম্মানে লাগার কোনো কারণ নেই। বরং তিনি সানন্দে এবং গর্বের সঙ্গেই পরীক্ষা দেবেন, যাতে জনগণ দেখতে পারে তিনি একজন মাদকমুক্ত মানুষ।
আরএনবি/এআর