নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
আওয়ামী লীগ আমলে গুম ও খুনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাবন্দি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিচারকাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হতে পারে বলে আশা করছে প্রসিকিউশন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১০৪ জনকে গুম ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিচারকাজ চলছে।
এ মামলায় রোববার ১৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক র্যাব কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমান। এদিন তার জেরাও শেষ হয়েছে।
মামলা প্রমাণের বিষয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, ‘এ মামলায় আমরা ট্রাইব্যুনালে দালিলিক, প্রত্যক্ষদর্শীসহ যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছি। এর মাধ্যমে জিয়াউলের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া সম্ভব। তবে শাস্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার তো আমাদের নয়; যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আমরা এসব দাবি তুলে ধরব।’
মামলার প্রতিটি অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী উপস্থাপন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সাক্ষীরা জিয়াউলেরই অধীনস্থ ছিলেন। তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও দু-একজন রয়েছেন।’
নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষ চাইলে আদালতের অনুমতি নিয়ে সাফাই সাক্ষ্য দিতে পারবেন।
প্রসিকিউটর জানান, এখন পর্যন্ত আসামিপক্ষ দুজন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছেন। তবে তারা সাক্ষ্য দেবেন কি না, তা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নির্ধারিত হবে।
বিচারকাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নে মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘কবে নাগাদ মামলা শেষ হবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব ট্রাইব্যুনালের। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো শেষ হয়নি। তবে আমরা আশা করছি, স্বাভাবিক গতিতে চললে অক্টোবর মাসের মধ্যে উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
আরএনবি/এএইচ