নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের আওতাধীন প্রকল্পে বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ও সেবা ক্রয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।
দুদকের অনুসন্ধানে কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের ছয়টি প্যাকেজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় মোট ১২ কোটি ৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৮৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ছয়টি পৃথক মামলা করা হয়েছে।
দুদক জানায়, প্রকল্পের আওতায় কেএন৯৫ (কঘ৯৫) ও এন৯৫ (ঘ৯৫) মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হাসপাতাল বেড, চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী, টিভিসি প্রচার, মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ক্রয় করা হয়। এসব ক্রয়ে পরস্পর যোগসাজশ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম মামলায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা, দ্বিতীয় মামলায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, তৃতীয় মামলায় ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা, চতুর্থ মামলায় ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ টাকা, পঞ্চম মামলায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা ৫০ পয়সা এবং ষষ্ঠ মামলায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাগুলোতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়াও কোভিড-১৯ ইআরপিপি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা ও অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানাসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্যাকেজের পণ্য ও সেবা সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মকর্তাদেরও মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১২০(বি) ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমআর