নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
নির্ধারিত সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র পদ্ধতিতে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে চলমান একটি বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা ছাড়াই সিএনএসের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অর্থের পরিবর্তে মোট আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সিএনএসকে সার্ভিস চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যারফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৮৯ কোটি টাকা বিল গ্রহণ করে।
তবে দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এমবিইএল-এটিটির পেছনে ব্যয় হয়েছিল ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। আবার ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকার চুক্তি পায়। পাঁচ বছরের হিসাবে ওই ব্যয় প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়।
দুদকের অভিযোগ, এ তুলনামূলক হিসাবের ভিত্তিতে সিএনএসকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তিতে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান ও মো. আব্দুস সালাম।
এ ছাড়া সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী এবং পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবালকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্টরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও আত্মসাতের মাধ্যমে নিজেদের বা অন্যকে আর্থিকভাবে লাভবান করেছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়।
২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। এরপর থেকে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কয়েক দফা সময় নির্ধারণ করা হলেও প্রতিবেদন জমা হয়নি। সর্বশেষ রোববার আদালত আগামী ১০ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এমআর/এএম