Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমানো: পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

ঢাকা মেইল ডেস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

এতে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে গত ২৭ আগস্ট জারি করা ওই পরিপত্রের (স্মারক নম্বর-৪৪.০০.০০০০.০৪৪.০১.০১৪.২০২৫-৩৬১) কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি এটিকে ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা এবং আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীদের দাবি, নতুন এই পরিপত্রটি বিদ্যমান ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ এবং ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও নতুন করে এই পরিপত্র জারি করায় বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারী ১০ জন হলেন—আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, আবদুল্লাহ সাদিক, মো. মিজানুল হক, যায়েদ বিন আমজাদ, মোহাম্মদ শানেওয়াস, ছাব্বির রহমান, মাহমুদুল হাসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।

বিষয়টি নিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘এই ধরনের প্রশাসনিক নৈরাজ্য চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত। তা না হলে নির্বাহী, বিচার ও আইন বিভাগের মধ্যে যে ভারসাম্য রয়েছে, তা ভেঙে পড়বে। অন্যের প্রাপ্য সম্মান দিলে নিজেদের তো কোনো অসুবিধা নেই।’

প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যার যতটুকু সম্মান পাওয়ার কথা, তাকে তা দিলে আপনার সম্মানের তো কোনো ঘাটতি হচ্ছে না! আপনি মন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্র সচিব, আপনার প্রটোকল আপনি পাবেন। কিন্তু বিচারপতির প্রটোকল কেন কাটছাঁট করতে হবে? প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তাকে নিচের স্তরে নামিয়ে আনার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’

বিচার বিভাগকে অবমূল্যায়ন করার মানসিকতা থেকেই এসব করা হয় মন্তব্য করে এই আইনজীবী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র সচিব পারলে আজকের মধ্যেই এটি প্রত্যাহার করে নিক। আগামীকাল আদালতে এসে তারা বলুক যে পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে, তাহলে আর রিট চলবে না। আর তা না হলে, অতীতের মতো আচরণ কেন করা হচ্ছে—সে বিষয়ে তাদের তলব করে ব্যাখ্যা চাইতে আমরা আদালতের কাছে আর্জি জানাব।’

এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল জানিয়ে রিটে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই ধরনের একটি পরিপত্র জারি করেছিল মন্ত্রণালয়। পরে বিষয়টি নজরে এলে ওই বছরের ৬ মার্চ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) রুল জারির পাশাপাশি পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত করে।

সে সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে ৯ মার্চ বাধ্য হয়ে ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।

আরএনবি/এআর