নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে বিভ্রান্তি এবং ঘটনাস্থল ধুয়ে আলামত নষ্ট করার অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিটের শুনানি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। প্রাথমিক শুনানি শেষে বিষয়টি ‘স্ট্যান্ড ওভার’ (মুলতবি) রেখে তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসান আল মামুন। রিটকারী দুই আইনজীবী হলেন মোস্তফা কামাল ও শেখ মো. গোলাম কিবরিয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ঘটনার পর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার ও এসপি দাবি করেছিলেন যে, অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত। ইয়াবা সেবনের সময় ধরা পড়ার ভয়ে তারা এই খুন করেছে। কিন্তু পরে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এ ছাড়া সুরতহাল ও ডোমের রিপোর্টেও অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়।
চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি পরবর্তীতে পুলিশের কাছ থেকে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বা সিআইডিতে হস্তান্তরের পর আলামত নষ্টের অভিযোগ তোলেন এই আইনজীবী।
তিনি বলেন, ডিবির তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় দুজন অপরিচিত লোক এসে পানির পাম্প ছেড়ে ঘটনাস্থল (প্লেস অব অকারেন্স) ধুয়ে ফেলে। একের পর এক এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও আলামত নষ্টের ঘটনা দেখে আমরা সুপ্রিম কোর্টের দুজন আইনজীবী বিষয়টি জুডিশিয়াল নোটিশে নেওয়ার জন্য রিটটি দায়ের করি।
শুনানিতে রিটকারী পক্ষ ড. কামাল হোসেনের পরিচালনায় এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের দেওয়া নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রেফারেন্স তুলে ধরেন।
আদালতের আদেশের বিষয়ে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বলেন, আদালত মৌখিকভাবে বলেছেন— ‘যেহেতু মামলাটি সিআইডি বা ডিবির কাছে গেছে, আমরাও বিষয়টি দেখছি এবং সুপারভিশনে থাকব।’ আদালত তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে রিটটি আট সপ্তাহের জন্য স্ট্যান্ড ওভার রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একজন সিনিয়র সিটিজেনসহ একই পরিবারের চারজনকে এমন নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। নইলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে।
রিটে যা বলা হয়েছে
দুই আইনজীবীর করা রিট আবেদনে বলা হয়, রংপুরের মাচুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ড (গণপতি মাস্টার হত্যা মামলা) সংঘটিত হওয়ার পরিস্থিতি ও ঘটনাবলি তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।
হাইকোর্ট বিভাগের কোনো সাবেক বা বর্তমান বিচারপতি অথবা আদালতের উপযুক্ত মনে করা কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়। এ ছাড়া স্বাধীন ফরেনসিক, চিকিৎসা, সাইবার-ফরেনসিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় অত্যন্ত দক্ষ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজিপি, পিবিআই পরিচালক, সিআইডিসহ তদন্ত সংস্থার প্রধান, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রংপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট শনিবার রংপুর মহানগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া গ্রামের তিনতলা ভবন থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৪) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর (২৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আরএনবি/এফএ