Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

মনে হয় আমিই একমাত্র অপরাধী: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে নিজেকে মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার দাবি করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর মনে হয় দেশে আমিই একমাত্র অপরাধী, আর কেউ নেই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে শুনানির সময় তিনি এ অভিযোগ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এদিন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে এক কনস্টেবল জবানবন্দি দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রসিকিউশনের জবানবন্দি গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হলেও আসামিপক্ষের জেরা বা বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশিত হচ্ছে না।

এ পর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসান কথা বলার অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, আমরা এখানে বিচারের জন্য এসেছি। কয়েক দিন আগে নুসরাত হত্যা মামলায় ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের পর আইনজীবী শিশির মনির ও তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেছেন, অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে নিম্ন আদালত ১৬ জনকেই ফাঁসি দিতে বাধ্য হয়েছিল। আমার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

জিয়াউল আহসান বলেন, পত্রিকা পড়লে মনে হয়, এই দেশে আমিই একমাত্র অপরাধী। আমার ওপর সব দোষ চাপানো হচ্ছে।

হাজতখানায় কেক কাটার খবর নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন সাবেক এনটিএমসি প্রধান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে খবর এসেছে, তিনি নাকি হাজতখানায় কেক কেটেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন। অথচ ওই দিন তিনি সেখানে ছিলেনই না। কে কেক কেটেছে, তা-ও তিনি জানেন না। এভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে তার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা হচ্ছে দাবি করে তিনি মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের অনুরোধ জানান।

জিয়াউল আহসানের বক্তব্যের পর আদালত উপস্থিত প্রসিকিউটরদের বিষয়টি চিফ প্রসিকিউটরের নজরে আনার নির্দেশ দেন।

বিচারক বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করা প্রয়োজন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু বিচারের আগে কাউকে খুনি বা ধর্ষক বলা সংগত নয়। তেমনটা হলে বিচারের আর প্রয়োজন কী?

জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশন থেকে কোনো তথ্য বিকৃত করা হয় না। আসামিদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা যুক্তি দেন।

শুনানি শেষে জিয়াউল আহসানের আরেক আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে তারা গণমাধ্যমে আগ বাড়িয়ে কোনো কথা বলতে চান না। তাদের চাওয়া, সংবাদমাধ্যমে যেন একতরফা কোনো তথ্য না আসে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

জুলাই আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গত দেড় দশকে অসংখ্য ব্যক্তিকে গুম, খুন ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে এসব মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।

আরএনবি/এআর