Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আযাদের আপিল গ্রহণ হবে কি না, সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চুর করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় বিষয়টি আদেশের জন্য রয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত দিনে আদেশ হওয়ার কথা থাকলেও অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি থাকায় তা পিছিয়ে যায় বলে আবুল কালামের আইনজীবী।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগ আদেশের জন্য ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। ওইদিন আদালতে আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন এহসান এ সিদ্দিক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়ের করা এই আবেদনে আবুল কালাম আযাদ আপিল দায়েরের বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ড স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন অনুযায়ী, রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আযাদ বিদেশে পলাতক থাকায় তিনি তখন আপিল করতে পারেননি। দীর্ঘ ১৩ বছর পর এখন তিনি সেই সুযোগ চাইছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এই আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পলাতক থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে আপিল না করায় এখন তা গ্রহণ করা আইনগতভাবে সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৪ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে হত্যা, দুই নারীকে ধর্ষণ, অপহরণ ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৩ সালে আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। এটিই ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইতিহাসে প্রথম রায়।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তান হয়ে আযাদের দেশে ফেরার খবর আসে। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সাজা স্থগিত চেয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

তৎকালীন অন্তর্র্বতী সরকার গত বছরের ২২ অক্টোবর কিছু শর্তে তার দণ্ড স্থগিত করে। শর্ত ছিল, তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত আপিল দায়ের করতে হবে।

সেই শর্ত মেনে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। ট্রাইব্যুনাল শুরুতে তাকে কারাগারে পাঠানোর মৌখিক নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে সরকারের স্থগিতাদেশ বিবেচনায় তাকে মুক্ত অবস্থায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপরই তিনি উচ্চ আদালতে আপিল আবেদনটি করেন।

আরএনবি/এএইচ