নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের (আজাদ মাঠ) ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে ওই পার্ক ও মাঠ ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন করে নির্মিত স্থাপনাগুলো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ ও মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন।
রিট আবেদনটি দায়ের করেন পরিবেশবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান, ফিরোজ আহমেদ, আমিরুল রাজিব ও সৈয়দা শাহীন মাহবুব।
রুলে বিবাদী করা হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, রাজউকের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির সুযোগ নিয়ে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে, যা মাঠ, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনের পরিপন্থী। এছাড়া আপিল বিভাগের নির্দেশনা ও মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন করে সেখানে বিভিন্ন স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত রুল জারির পাশাপাশি আরও একটি বিষয়ে নির্দেশনা চেয়েছেন। মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন করে পার্কে নির্মিত বেআইনি স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করতে কেন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সংকুচিত করার বিষয়ে অভিযোগ তুলে আসছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।
আরএনবি/এএইচ