Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

সুপ্রিম কোর্টে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ থেকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একটি অংশ এবং কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান , শ্লোগান ও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবন ও বার ভবনের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষোভকারীরা বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগ দাবি করেন। তবে উভয়পক্ষকেই বিএনপি, খালেদ জিয়া ও তারেক জিয়াকে নিয়ে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে দুই শতাধিক আইন কর্মকর্তা এবং আন্দোলনকারী আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি স্লোগানের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

Supreme_Court_Lawyer_1
সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবন ও বার ভবনের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে আইনজীবী ও আইন কর্মকর্তাদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী আইনজীবী এবিএম ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল বর্তমান দায়িত্ব পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের দোসর এবং জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। যার প্রতিবাদে আমরা ২৬ দিন ধরে আন্দোলন করছি। আজ আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে আইন কর্মকর্তারা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে এবং বালু নিক্ষেপ করেছে।’

তার দাবি, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ‘দলকে ধ্বংস’ করছেন এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ‘বিদেশে অর্থপাচারের’ তথ্যও রয়েছে।

আইনজীবী জুলফিকার আলম শিমুল বলেন, ‘ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের উসকানিতে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি। পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

এদিকে হামলার অভিযোগ সরাসরি নাকচ না করলেও বিষয়টিকে 'ধাক্কাধাক্কি' হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে গিয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজলের সাথে আলোচনা করতে দেখা যায় এই আইনজীবী নেতাকে।

আলোচনা শেষে সজল বলেন, ‘এটি আসলে বড় কোনো মারামারি নয়। দুটি মিছিল যখন মুখোমুখি হয়, তখন কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হয়। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি আজকের মধ্যেই এর একটি সমাধান হবে।’

পুরো বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি  বলেন, ‘এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আজকের ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনার সুরাহা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরআগের গত ৩০ জুলাই আগের সব নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২ আগস্ট থেকেই সুপ্রিম কোর্ট  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়

আন্দোলনকারী আইনজীবীদের দাবি, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং অতীতে মামলা-হামলা ও কারাবরণের শিকার অনেক যোগ্য আইনজীবীকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের পরিবর্তে আর্থিক লেনদেন ও বিশেষ সুবিধার ভিত্তিতে ডিএজি ও এএজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তারা বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ত্যাগ এবং পেশাগত দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই নীতির অনুসরণ করা হয়নি। এখন তাদের এই আন্দোলন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগের দাবিতে এসেছে ঠেকেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

আরএনবি/এএম