নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়ে যারা যেতে পারেননি, সেই ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মীকে সরকারের নতুন ‘জিরো-কস্ট স্কিমে’ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রতিকার চেয়ে করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।
শুনানি শেষে আদালত এই মামলাটি আগামী চার মাসের জন্য ‘স্ট্যান্ড ওভার’ (মুলতবি) রেখেছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সরকারকে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ বা বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন।
আরও পড়ুন: বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী
এদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে একটি ‘অ্যাফিডেভিট-ইন-কমপ্লায়েন্স’ বা বাস্তবায়ন হলফনামা দাখিল করা হয়।
এতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং যারা কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়।
শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্ট স্কিমের’ আওতায় নতুন করে ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক আরও উচ্চতায় নিতে চায় সরকার’
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিহ্নিত ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে না পারায় তারা চরম আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের অধিকার ও ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
এর প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দেন যে, সরকারের ঘোষিত এই ১০ হাজার কর্মীর কোটায় ওই ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ দিতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের আইনি লড়াইয়ে এটি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে যারা টাকা দিয়েও বিদেশে যেতে না পেরে সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন, তাদের বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশার আলো তৈরি হলো।
আরএনবি/এএইচ