নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৫ এএম
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের করা আপিল গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
একই সঙ্গে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ বা পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচারের আবেদনের বিষয়েও সেদিন আদেশ হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আদেশের জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে আজ আপিলকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এই আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আযাদ বিদেশে পলাতক থাকায় তিনি আপিল করতে পারেননি।
আবুল কালাম আযাদ নির্ধারিত সময়ের ১৩ বছর পর আপিল করার সুযোগ পেয়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর সেটিই ছিল ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
তাতে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন ফরিদপুরের বাসিন্দা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে একাত্তরে ১৪ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে হত্যা, দুই নারীকে ধর্ষণ, অপহরণ ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম রায়।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তান হয়ে আযাদের দেশে ফেরার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর সাজা স্থগিত চেয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।
সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২২ অক্টোবর তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তখনকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে শর্ত দেওয়া হয়, আদালতে আত্মসমর্পণ করে তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।
এরপর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে আপিল প্রস্তুতের জন্য রায়ের সার্টিফায়েড কপি (নকল) ও অন্যান্য নথিপত্র চেয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আযাদ।
ট্রাইব্যুনাল শুরুতে তাকে কারাগারে পাঠানোর মৌখিক আদেশ দিলেও পরবর্তীতে স্থগিতাদেশ বিবেচনায় তাকে মুক্ত অবস্থায় থাকার অনুমতি দেন।পরে তিনি আপিলও দায়ের করেন।
আরএনবি/এআরএম