Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

সাগর-রুনি হত্যা: এক ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে’র যোগসূত্র পাওয়ার তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ না করলেও তার ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব তথ্য জানান।

এদিকে বিকেলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রচার হওয়া বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে জানতে ট্রাইব্যুনালে আসেন সাগর-রুনি দম্পতির একমাত্র সন্তান মেঘ।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অন্য মামলার কাজ করতে গিয়ে এই ক্লু পেয়েছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা কখনো কখনো অন্য ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্য বা ক্লু পেয়ে যায়। সাগর-রুনি হত্যা মামলার ক্ষেত্রেও তেমন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কানেকশন পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে সাগর-রুনি হত্যা নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্স ছাড়া অন্য কারো তথ্য প্রচারে তদন্তের স্পিরিট নষ্ট হবে বলে অভিযোগ করেছেন সাগর-রুনি পরিবারের আইনজীবী শিশির মনির।

তবে ওই  সাংস্কৃতিক ব্যক্তি কী ধরনের বা কতটুকু সম্পৃক্ত, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি চিফ প্রসিকিউটর। তথ্যগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা তথ্যগুলো যাচাই করে দেখছি। ওই ব্যক্তির ওপর নজরদারি রয়েছে। তদন্তে আরও নির্ভরযোগ্য ও অথেনটিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে তা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দিয়ে সহায়তা করা হবে।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এটা একটা ইনডিভিজুয়াল মার্ডার কেস (ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড)। এর বিচার সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতেই হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলা বিচারের সুযোগ নেই। এটি সাধারণ ফৌজদারি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এক দশকের বেশি সময় পার হলেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ দফায় দফায় পিছিয়েছে। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।

আরএনবি/এফএ